নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব বন্ধের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে কৃষকেরা । আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের তরা ব্রিজ এলাকায় কয়েকশ কৃষকের এক অভিনব ও বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
ঝাড়ু ও কাঁচি হাতে রাজপথে শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় চামটা ও খাগড়াকুরি গ্রামের কয়েকশ নারী-পুরুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিক্ষোভে দেখা যায় এক ভিন্নধর্মী চিত্র— পুরুষরা মাথায় মাথাল ও হাতে কাঁচি নিয়ে কৃষকের প্রতীকী সাজে অংশ নেন। অন্যদিকে, নারীরা হাতে ঝাড়ু ও লাঠি নিয়ে ‘মাটি খেকো’ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের ঘোষণা দেন।এক বিক্ষোপকারীকে ব্রিজের উপর শুয়ে পড়ে থাকতেও দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীরা তরা ব্রিজের ওপর অবস্থান নিলে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে এবং মাটি কাটা বন্ধের সুনির্দিষ্ট আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা অভিযোগ করেন, মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় একটি প্রভাবশালী ‘মাটি খেকো’ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি লুটে নিচ্ছে। এতে আবাদি জমিগুলো বিশাল গর্তে পরিণত হচ্ছে এবং এর প্রভাবে পার্শ্ববর্তী সুস্থ জমিগুলোও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে জেলায় ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে।

বারবার স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।প্রভাবশালী চক্রটি কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক মাটি নিয়ে যাচ্ছে।অবিলম্বে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিক্ষোভকারীরা সরাসরি মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমরা আমাদের জীবন দিয়ে হলেও বাপদাদার এই ফসলি জমি রক্ষা করব। প্রভাবশালী চক্রের এই দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে মাননীয় সংসদ সদস্যের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে জেলার কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুতই এই অবৈধ খনন বন্ধে কঠোর অভিযানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।