সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি :
আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার কোনো যানবাহনে ডিজে পার্টি বা উচ্চশব্দে গান-বাজনা করা যাবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কিশোর ও শিক্ষার্থীদের রাতভর আড্ডাবাজি বন্ধে আজ থেকেই অবৈধ টং দোকান ও আড্ডাখানাগুলো উচ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৩ মে) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত মে ২০২৬ মাসের নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, “সাটুরিয়ার বিভিন্ন গ্রামীণ মোড়ে ও বাজারে টং দোকান বসিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আড্ডা দিচ্ছে। এতে তাদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। যুবসমাজকে রক্ষায় আজ থেকেই এই অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে এবং অবৈধ আড্ডাখানাগুলো উচ্ছেদ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে এবং মাদক প্রতিরোধের ক্ষেত্রে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। উপজেলার কোথাও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অপরাধে ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
পবিত্র ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে তিনি জানান, সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এবং অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বালিয়াটি জমিদার বাড়ি এলাকায় দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে যেন যানজটের সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাটুরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৌমিতা গুহ ইভা, সাটুরিয়া থানার ওসি মো. মোশাররফ হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আব্দুল কুদ্দুছ খান মজলিশ মাখন ও আবুল বাশার সরকার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মুহাম্মদ আমীর হামজা, সাটুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফয়জী, বালিয়াটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর সোহেল আহমেদ চৌধুরী, ফুকুরহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান এবং সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন পিন্টু।
সভায় বক্তারা উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং একটি উৎসবমুখর ও নিরাপদ ঈদ উদ্যাপন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান।