শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দীর্ঘ ৩৩ বছরের কর্মজীবনের ইতি: দৌলতপুরে পুলিশ সদস্য মফিজুর রহমানকে রাজকীয় বিদায় দৌলতপুরে নদীভাঙন তীব্র: ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা বহু পরিবার, হুমকির মুখে স্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মানিকগঞ্জে মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নুর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকীতে জেলা পেশাজীবী দলের শ্রদ্ধা ও কবর জিয়ারত ​”পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার”​সাটুরিয়ার ঐতিহাসিক বালিয়াটি জমিদার বাড়ি পরিদর্শনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মানিকগঞ্জে পুকুর থেকে বৃদ্ধের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার দৌলতপুরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের মানবিক সহায়তা প্রদান করেন- শায়লা কবির মানিকগঞ্জে সাগর হত্যার রহস্য উদঘাটন: পিবিআইয়ের হাতে প্রধান আসামি গ্রেফতার দেশীয় মাছ রক্ষায় সিংগাইরে ভ্রাম্যমাণ আদালত: বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস সাটুরিয়ায় ঘুমন্ত যুবকের শরীরে এসিড নিক্ষেপ, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীসহ অভিযুক্ত ৪ শিবালয়ে বন্ধ ফ্লাওয়ার মিল দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: মালিকের কারাদণ্ড ও একাধিক মামলা

দুই দফায় সময় ও ব্যয় বাড়লেও সাটুরিয়ার চন্দ্রখালী খাল সেতুর কাজ ধীরগতি, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ৭৪ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক

​চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হতে বাকি আর মাত্র কয়েক মাস। কিন্তু আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও সাটুরিয়া বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত চন্দ্রখালী খালের ওপর সেতু নির্মাণকাজ চলছে চরম ধীরগতিতে। এরই মধ্যে দুই দফায় বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন গাফিলতি এবং রহস্যজনক ধীরগতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

​স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সাটুরিয়া উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাটুরিয়া বাজার ও এর আশপাশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ করতে চন্দ্রখালী খালের ওপর পুরোনো সেতুটি ভেঙে একটি আধুনিক সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ২০২৩ সালে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯০৪ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় খাগড়াছড়ির একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু করে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ করার কথা ছিল।


​তবে সরেজমিনে সেতু এলাকায় গিয়ে কাগজের হিসাবের সাথে বাস্তব চিত্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরুই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মাঝে মাঝে দু-চারজন শ্রমিক ও ঠিকাদারের প্রতিনিধিদের এলাকায় দেখা গেলেও, কয়েক দিন নামমাত্র ধীরগতির কাজ দেখিয়ে আবারও দীর্ঘ সময়ের জন্য কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এভাবে নানা অজুহাতে দিনের পর দিন সময় পার করা হলেও কাজের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
​সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সেতুর বেশিরভাগ অংশই এখনো অসম্পূর্ণ। বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে এবং চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও সামান্য কিছু কাজের চিহ্ন দৃশ্যমান হলেও, একটি বড় প্রকল্পের জন্য যে ধরনের পুরোদমে তৎপরতা থাকা প্রয়োজন, তার কিছুই চোখে পড়েনি।
​ভোগান্তির কথা জানিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মৃধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আড়াই বছর পার হয়ে গেল, আমাদের ভোগান্তি দেখার কেউ নেই। এখানে একটি সচল ও ভালো সেতু ছিল, সেটি ভেঙে আধুনিক সেতু করতে গিয়ে আমরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। আগের সেতুটি বহাল রেখে পাশে এই নতুন সেতুটি নির্মাণ করলে আমাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।”

এ বিষয়ে সাটুরিয়া ইউনাইটেড মডেল স্কুলের পরিচালক মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন,এই সেতুর কার্যক্রম ধীরগতিতে চলার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। আপাতত চলাচলের জন্য যে সংযোগ সড়ক করা হয়েছে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আড়াই বছরে সিএনজি হ্যালোবাইক সহ বিভিন্ন যানবাহন দূর্ঘটনায় ছাত্র-ছাত্রীসহ অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছে।তাই দ্রুত এই সেতুটি নির্মাণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

​সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় প্রথম দফায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। তাতেও কাজ না এগোনোয় পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় আবারও সময় বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকল্প ব্যয়ও সংশোধন (বৃদ্ধি) করা হয়েছে।

কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকা সত্ত্বেও সরকারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ এবং বারবার সময় বাড়িয়ে দেওয়ার এই যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি আজ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অবিলম্বে এই ধীরগতির তদন্ত করে দ্রুত গতিতে সেতুর কাজ শেষ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাটুরিয়াবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2025 RupkothaTV
Designed & Maintained by PSDCooker