মোঃ শাহ আলম,দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের তালুকনগর গ্রামে বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, স্থানীয় সালিশে ন্যায়বিচার না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যা করেন নাছিমা বেগম (২৮)। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত নাছিমার বাবা মো. আব্দুল হক ২০ জুলাই দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তালুকনগর গ্রামের শাকিল (৩০), সুবল (২৭) ও ইব্রাহিম ওরফে ইনহান (৬০)কে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি পেনাল কোডের ৩০৬ ও ৫০৬ ধারায় রুজু হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় ১২ বছর আগে একই গ্রামের প্রবাসী শামীমের সঙ্গে নাহিমার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সাত বছর বয়সী এক ছেলে ও তিন বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে শামীম জীবিকার তাগিদে বিদেশে গেলে প্রতিবেশী শাকিল বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নাছিমার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঢাকায় সংসার করার প্রলোভন দেখিয়ে শাকিল নাহিমার কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা নেন। পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এছাড়া শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় অর্থ আদায়েরও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে নাছিমা বিয়ের দাবিতে শাকিলের বাড়িতে গেলে তাকে অপমান করে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ জুলাই তালুকনগর গ্রামে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউপি সদস্য শরিফ ইসলাম লালন, হাবেল, জলিল, শামসুল, রবিজ্জল, সুরমান, আলিম, আনোয়ার, আলম ও সিরাজুল উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সালিশে নিরপেক্ষ বিচার না হয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ নেওয়া হয়। এতে নাছিমা চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
নিহতের ভাই রাসেল মিয়া বলেন, “আমার বোন বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে। সালিশে একতরফাভাবে অভিযুক্তদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।”
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সালিশের পরদিন ১৯ জুলাই রাত দেড়টা থেকে ভোর ৩ টার মধ্যে কোনো এক সময় বাড়ির রান্নাঘরের পাশে শাড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস নেন নাছিমা। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু ভিডিও তাদের হাতে রয়েছে। সেসব ভিডিওতে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের প্রমাণ রয়েছে বলে তারা দাবি করলেও ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বলেন, “আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সব দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”