মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণার অভিযোগে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের যুবদলের পাঁচ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রবিন আহম্মেদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এ ছাড়া একই অভিযোগে নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রদলের নয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. শোয়েব হোসেনের স্বাক্ষরিত অপর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।
বহিষ্কারপ্রাপ্ত যুবদলের নেতারা হলেন, দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ন আহ্বায়ক মো. জসিম,চরকাটারি ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আবুল বাসার,জিয়নপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক আতোয়ার হোসেন ও আবদুর রহিম এবং বাঘুটিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মো. হাতেম আলী।
এ ছাড়া শোকজপ্রাপ্ত ছাত্রদলের নেতারা হলেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, শিবালয় ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক তুষার মিয়া ও সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক ইমদাদুল হক, শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি হৃদয় হোসেন,শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, আরুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সাগর খান, মহাদেবপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিক মিয়া, দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুর রহমান এবং ঘিওর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ন আহ্বায়ক মেহেদী হাসান।
যুবদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ না করে যুবদলের ওই পাঁচ নেতা দল থেকে বহিষ্কৃত এক বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নিয়মিত প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এর প্রেক্ষিতে যুবদলের ওই পাঁচ নেতাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ে পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সেলিম এবং সদস্য সচিব মো. আবদুস সালামের সিদ্ধান্তক্রমে ওই পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।
দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ন অমান্য করে তাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়ে আসছেন। দলীয় এই শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাঁদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ দিকে ছাত্রদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একটি সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত সংগঠন। সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রত্যেক নেতা-কর্মীর দায়িত্ব ও কর্তব্য। সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে ছাত্রদলের ওই নয়জন নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ না করে তাঁরা দল থেকে বহিষ্কৃত এক বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নিয়মিত প্রচারণা চালিয়ে আসছেন— এ মর্মে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল খালেক শুভ এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজুর রহমান খানের কাছে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল খালেক শুভ বলেন, দলের সদস্য হয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর ও দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী তোজাম্মেল হকসহ সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক, গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ ইলিয়অছ হুছাইন, জনতার দলের মোহাম্মদ শাজাহান খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খোরশেদ আলম এবং স্বতন্ত্র মো. আব্দুল আলী বেপারী।