নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জ শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া চরাঞ্চলে অবৈধভাবে নদীর বালুমাটি কাটার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে অতর্কিত হামলায় মিরাজ নামের একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন জাহাঙ্গীর (৫০) নামের একজন।
অপর দিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরাঞ্চলের কয়েকজন বলেন,আলোকদিয়ার চরাঞ্চলের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবু ডাকাত ও তার পুত্র জামাল সহ কয়েকজন এ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত।অপর দিকে যারা চাঁদা দাবী করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে,এরা দুগ্রুপই সরকার দলের আর্শীবাদপুষ্ট বলে চরবাসীকে জিম্মি করে অপকর্ম করে যাচ্ছে। তারা বলেন,বড় বড় নেতারা তাদের সাথে আছে আর এসব কারনে আমরা ভয়ে থাকি।
ঘটনার বিবরণীতে জানা গেছে, শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া চরাঞ্চলে অবৈধভাবে নদীর বালি মাটি কাটার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দুইটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত মনমালিন্য চলছিল। এর জের ধরে আজ ৩ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে অস্ত্রধারী বাহিনী বালু মাটি কাটায় রত লোকজনের উপরে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এতে মিরাজ (৫০) নামের একজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়। মিরাজের বাড়ি পাবনা এলাকায় বলে জানা গেছে এবং সে জনৈক হাজী সাহেবের ক্যাশিয়ার কাম ম্যানেজার বলে স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন। মিরাজ দীর্ঘদিন যাবত আলোকদিয়া এলাকায় বসবাস করতে ছিল এবং বালু কাটার হিসাব এর কাজটিও সে করছিল বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মিরাজকে মানিকগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। অপরদিকে জাহাঙ্গীর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে।
এ ব্যাপারে শিবালয় থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি),আলোকদিয়া চরে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। আমরা বিস্তারিত খোঁজখবর নিতে অলোকদিয়ায় যাচ্ছি এবং যারা দোষী তাদেরকে আইনের আওতায় দ্রুত নিয়ে আসার আশ্বাস দেন তিনি।
শিবালয় উপজেলার বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নাছির উদ্দীন বলেন,বাবু ডাকাত আঃলীগের লোক এটা নিশ্চিত। এবং অনেকেই এখন নিজেদের বিএনপি হিসাবে পরিচয় দিয়ে সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করতে পারে।তবে বিএনপির কেউ এর সাথে জড়িত নয়।
শিবালয় উপজেলা বিএনপির সভাপতি রহমত আলী লাবলু বলেন,বিষয় টি সম্পর্কে আমি এখনও অবগত নই।
চরাঞ্চলবাসীর দাবী,অবৈধ বালু কাটা বন্ধ সহ এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।সরকারি ভাবে ইজারাকৃত বালু মহালগুলোর নির্ধারিত এলাকার বাইরে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হোক।