নিজস্ব প্রতিবেদক।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে পারিবারিক কলহের জেরে মা ও ১৫ মাস বয়সী শিশুকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।বুধবার চারটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
মঙ্গলবার (০২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার শাহ আলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মামলার প্রধান আসামি মোঃ ইউসূফ মোল্লা (৪২) এবং হত্যার সহযোগী পরিকল্পনাকারী মোঃ সুমন হোসেন (২৩)। উভয়ের বাড়ি দৌলতপুর থানার বাচামারা কাচারীপাড়া এলাকায়।
পুলিশ ও ডিবি সূত্রে জানা গেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল পবিত্র ঈদুল আজহার ৪-৫ দিন আগে ঢাকার সাভারে আসামির বোনের বাসায়। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ৩ জন— নিহতের দেবর ইউসূফ, ভাগিনা সুমন এবং ভাগিনা সবুজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার ৩-৪ দিন আগে ইউসূফ এলাকায় আসেন এবং সবুজ আসেন ঘটনার দিন বিকালে।
গত ৩০ মে রাত সোয়া ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে দৌলতপুরের বাচামারা কাচারীপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হামলা চালানো হয়। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন দেবর ইউসূফ ও ভাগিনা সবুজ। হামলায় দুটি হাতুড়ি ব্যবহার করা হয়; যার একটি বাড়িতেই ছিল এবং অপরটি ঘটনার দিন চরকাটারী বোডঘর বাজার থেকে কিনে আনেন সবুজ।
হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন ইউসূফের আপন ভাবী আমেনা খাতুন (৩২) ও ১৫ মাস বয়সী ভাতিজা আসলাম হোসেন আসাদকে। একই সাথে ইউসূফের আপন ভাই আঃ সালাম মোল্লা (৪৮)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
এই নৃশংস ঘটনার পরদিন ৩১ মে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম (বিপিএম-সেবা) এর নির্দেশনায় ডিবির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস দল অভিযানে নামে।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে মূল আসামি ইউসূফ ও সহযোগী সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ২টি হাতুড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।
মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান আসামি ইউসূফ পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামি সবুজকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।