নিজস্ব প্রতিবেদক
‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কালজয়ী আবাহনের মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে বাঙালির হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি এক অনন্য মহিমায় ফুটে ওঠে। এবারের আয়োজনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সবার দৃষ্টি কেড়েছে গ্রাম বাংলার প্রায় বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ।
দিবসটির সূচনায় উপজেলা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষ ও শিশুরা বাহারি সাজে সজ্জিত হয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানান। র্যালিতে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন উপকরণ ও প্রতিকৃতি প্রদর্শনের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়।
শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা বকুলতলা চত্বরে ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ ভোজের আয়োজন করা হয়। ভোজন পর্ব শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় লোকসংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে দীর্ঘ সময় পর পুতুল নাচের আয়োজন দেখে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। সকল ভেদাভেদ ভুলে নতুন বছরে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে। আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই আমাদের আত্মপরিচয়।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
পুরো আয়োজনকে কেন্দ্র করে সাটুরিয়া উপজেলা চত্বর এক আনন্দঘন ও মিলনমেলায় পরিণত হয়। উপস্থিত সকলেই নতুন বছরে সুন্দর ও সমৃদ্ধ আগামীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।