নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষি অফিসের সঠিক নির্দেশনায় এবার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে সোনালি ধানের সমারোহ দেখে কৃষকদের চোখে-মুখে এখন সোনালি স্বপ্নের ঝিলিক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ, সাটুরিয়া, বালিয়াটি, দড়্গ্রাম, তিল্লী,দিঘলিয়া, বরাইদ,ফুকুরহাটী ও ধানকোড়া এই ৯টি ইউনিয়নে চলতি বছরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫,৩৪৮ হেক্টর জমি। তবে অনুকূল পরিবেশ ও কৃষকদের আগ্রহের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ অর্জিত হয়েছে ৫,৩৫০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ধানের শীষে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম এবং প্রয়োজনীয় সেচ ও সারের সরবরাহ থাকায় ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ধানের শীষ বেশ পুষ্ট হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড় বা শিলাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তারা ঘরে ধান তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী। ধান কাটার সরঞ্জাম ও বাড়ির আঙিনা প্রস্তুত করতে কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম জানান”এ বছর আবহাওয়া এখন পর্যন্ত চাষাবাদের জন্য বেশ উপযোগী ছিল। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছি। বোরো আবাদের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে এবং ফলনও প্রত্যাশা অনুযায়ী বাম্পার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকেই মাঠ পর্যায়ে ধান কাটা উৎসব শুরু হবে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাটুরিয়ায় বোরো ধানের এই বাম্পার ফলন কেবল স্থানীয় চাহিদা মেটাবে না, বরং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষি বিভাগের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং কৃষকের কঠোর পরিশ্রমের ফসল হিসেবে এবার সাটুরিয়ায় ‘সোনালি বিপ্লব’ ঘটার অপেক্ষায় পুরো উপজেলাবাসী।