নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় “দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন” কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীখালী নদীর সংযোগ হতে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য চন্দ্রখালী খাল খনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) বিকেল ৬ টার দিকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় গাজীখালী নদীর সংযোগ হতে চন্দ্রখালী খাল খনন প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।এতে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মিস্ আফরোজা খানম রিতা, এমপি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান,সাটুরিয়া ও বালিয়াটি ইউনিয়নে এই খনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।পুনঃখনন” কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীখালী নদীর সংযোগ হতে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য চন্দ্রখালী খালে প্রাক্কলিত মাটির কাজের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩০,০৬,০১২ ঘনফুট।ব্যায় হবে মোট ২,৮৩,২৭,৬২৩/- (দুই কোটি তিরাশি লক্ষ সাতাশ হাজার ছয়শ তেইশ) টাকা। প্রকল্পটিতে মোট ৬৫৪ জন উপকারভোগী শ্রমিক কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রত্যেক শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪০ কর্মদিবসের এই প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ মোট ১,৪০,৭১,৮৬৯/- টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়া নন-ওয়েজ কস্ট হিসেবে ১,৪২,৫৫,৭৫৪/- টাকা এবং সর্দার ভাতা হিসেবে ২,০০০/- টাকা বরাদ্দ রয়েছে।আগামী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বালিয়াটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো: বিনোদ আলী এই প্রকল্প কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
এই খাল খনন প্রকল্পের ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং অতিদরিদ্র মানুষরা সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবেন। স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিতভাবে কাজের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করবে বলে নিশ্চিত করেছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষি কাজে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে এই খাল খনন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।