সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে প্রথমবারেই বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ও নতুন জাতের ‘ব্রি ধান ১০৮’ চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জিরার চালের মতো মাঝারি চিকন ও চমৎকার বাজারমূল্য থাকায় প্রথম বছরের চাষেই উপজেলার কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে নতুন এই ধানের জাত।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি (বোরো) মৌসুমে প্রথম বারের মতো উপজেলার সাটুরিয়া সদর, হরগজ, দড়গ্রামসহ ৯টি ইউনিয়নে প্রদর্শনী প্লট ও সাধারণ চাষী পর্যায়ে মোট ৮০ হেক্টর জমিতে এই ব্রি ধান ১০৮ চাষ করা হয়েছে। প্রথমবার চাষেই হেক্টর প্রতি এই ধানের গড় ফলন হয়েছে সাড়ে ৯ টন (৯.৫ মেট্রিক টন), যা অন্যান্য প্রচলিত উফশী জাতের চেয়ে অনেক বেশি।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, মাঠ জুড়ে পেকে সোনালী রঙ ধারণ করেছে ব্রি ধান ১০৮। কৃষকরা মনের আনন্দে ধান কাটছেন। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই জাতের প্রধান আকর্ষণ হলো এর প্রতি ছড়ায় ধানের সংখ্যা অনেক বেশি (২৫০ থেকে ২৭০টি) এবং দানাগুলো খুব ঘনভাবে সাজানো থাকে। গাছগুলো মজবুত হওয়ায় চলতি মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টিতেও ধানক্ষেত সহজে হেলে পড়েনি।
হরগজ ইউনিয়নের বেপারী পাড়া গ্রামের চাষী
হাজী বেলাল পাগলা ও মোঃ আরিফুল হাসান জানান, আগে তারা বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ২৮ বা ২৯ চাষ করতেন। কিন্তু এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে ব্রি ধান ১০৮ চাষ করে তারা তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। বিঘাপ্রতি ফলন যেমন বেশি হয়েছে, তেমনি চাল চিকন হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও অনেক।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রি ধান ১০৮-এর চালের আকার ও গুণগত মান ব্রি ধান২৮, ২৯ ও ব্রি ধান১০০ এর চেয়েও উন্নত। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
অধিক ফলন ক্ষমতা: অনুকূল পরিবেশ ও সঠিক পরিচর্যা পেলে এটি হেক্টরে ৯.৫ থেকে ১০ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।এই ধানের চালের ভাত বেশ ঝরঝরে এবং রঙ আকর্ষণীয় সাদা হয়।চালের আকার প্রাকৃতিকভাবেই চিকন হওয়ায় মিলিং বা ছাঁটাইয়ের সময় অতিরিক্ত পলিশ করতে হয় না, ফলে চালের পুষ্টিগুণ অটুট থাকে।

সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সাটুরিয়া উপজেলায় এবারই প্রথম ব্রি ধান ১০৮ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে এর আবাদ হয়। আমরা মাঠ পর্যায়ে কর্তন করে দেখেছি, প্রতি হেক্টরে গড়ে সাড়ে ৯ টন ফলন এসেছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। চালের চমৎকার গুণগত মান এবং বাম্পার ফলন ক্ষমতার কারণে আগামীতে এই উপজেলায় ব্রি ধান ১০৮ এর চাষাবাদ আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং এটি কৃষকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনবে।”
স্থানীয় কৃষি বিভাগ আশা করছে, কম খরচে অধিক ফলন ও ভালো বাজারমূল্য পাওয়ার কারণে আগামী বোরো মৌসুমে সাটুরিয়ার কৃষকদের মাঝে ব্রি ধান ১০৮ চাষের জনপ্রিয়তা আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।