শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দীর্ঘ ৩৩ বছরের কর্মজীবনের ইতি: দৌলতপুরে পুলিশ সদস্য মফিজুর রহমানকে রাজকীয় বিদায় দৌলতপুরে নদীভাঙন তীব্র: ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা বহু পরিবার, হুমকির মুখে স্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মানিকগঞ্জে মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নুর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকীতে জেলা পেশাজীবী দলের শ্রদ্ধা ও কবর জিয়ারত ​”পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার”​সাটুরিয়ার ঐতিহাসিক বালিয়াটি জমিদার বাড়ি পরিদর্শনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মানিকগঞ্জে পুকুর থেকে বৃদ্ধের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার দৌলতপুরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের মানবিক সহায়তা প্রদান করেন- শায়লা কবির মানিকগঞ্জে সাগর হত্যার রহস্য উদঘাটন: পিবিআইয়ের হাতে প্রধান আসামি গ্রেফতার দেশীয় মাছ রক্ষায় সিংগাইরে ভ্রাম্যমাণ আদালত: বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস সাটুরিয়ায় ঘুমন্ত যুবকের শরীরে এসিড নিক্ষেপ, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীসহ অভিযুক্ত ৪ শিবালয়ে বন্ধ ফ্লাওয়ার মিল দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: মালিকের কারাদণ্ড ও একাধিক মামলা

১৬ কোটি টাকা জলে: সাটুরিয়ার গাজীখালী নদী এখন কচুরিপানার জট, বন্ধ নৌপথ

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
  • ২৪ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক।

বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহাসিক গাজীখালী নদী এখন পানিশূন্য। নদীর বুকে পানির বদলে কেবলই চোখে পড়ে মাইলের পর মাইল জুড়ে থাকা কচুরিপানার জট। উপজেলার গোপালপুর এলাকা থেকে ধামরাইয়ের বারবারিয়া এলাকা পর্যন্ত নদীজুড়ে কচুরিপানার এমন জট সৃষ্টি হয়েছে যে, চেনার উপায় নেই এটি একসময়ের প্রবহমান নদী। ফলে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে নৌচলাচল।
​অভিযোগ উঠেছে, দুই দফায় গাজীখালী নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে শুধু সাটুরিয়া অংশেই সরকারের প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয় করে খননকাজ করা হলেও তা কোনো কাজেই আসেনি। স্থানীয়দের মতে, যথাযথ তদারকির অভাব ও দায়সারা খননের কারণে সরকারের এই বিপুল অর্থ কার্যত জাদুকরী উপায়ে ‘জলে গেছে’।


​সরেজমিনে গাজীখালী নদীর কয়েকটি পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, নদীটি সাটুরিয়ার গোপালপুরে ধলেশ্বরী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ধামরাই হয়ে সিংগাইরে ধলেশ্বরী নদীতেই মিশেছে। একসময় এই গাজীখালী নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল ঐতিহ্যবাহী সাটুরিয়া বাজার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড় বড় নৌকা ও স্টিমারে করে শত শত ক্রেতা-বিক্রেতা এই নদী পথেই যাতায়াত করতেন।
​জানা গেছে, ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২০২১ অর্থবছরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া, সদর, সিংগাইর ও ঢাকার ধামরাই সীমানা ঘেঁষে প্রবহমান ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীতে খননকাজ চালানো হয়। তিন উপজেলার এই খনন যজ্ঞে মোট ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাটুরিয়ার গোপালপুর থেকে প্রথম ১৫ কিলোমিটার এবং পরবর্তী অংশ মিলিয়ে সাটুরিয়া অংশেই প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু খননের বছরে সামান্য পানি এলেও, পরবর্তী সময়ে নদীর অবস্থা আগের চেয়েও শোচনীয় হয়ে পড়ে।
​স্থানীয়দের ক্ষোভ: ‘লাভবান হয়েছে শুধু প্রভাবশালীরা’
​নদীর এমন দুরাবস্থায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাটুরিয়ার হরগজ গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আব্দুল মজিদ বলেন, “আগে এই সময়টাতে সাটুরিয়া হাটে আসার একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। গ্রামের খালগুলো দিয়ে নৌকা নিয়ে গাজীখালী নদী হয়ে হাটে আসতাম। আর এখন খালে তো পানিই নাই, গাজীখালী নদীতেও জটের কারণে পানি দেখা যায় না।”

​দড়গ্রাম এলাকার প্রবীণ জেলে জ্যোতিষ রাজবংশী (৬৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে নদীতে পানি আসতো, মাছ মারতাম। শত শত জেলে পরিবার এই নদী দিয়ে সংসার চালাতো। এখন পানিই আসে না। কয়েক বছর আগে নদী খননের নামে শুধু মাটি বিক্রি করে লাভবান হয়েছে প্রভাবশালীরা, নদীর নাব্যতা ফেরেনি।”

​পানাইজুরির মো. গোলাম মোস্তফা (৭৫) স্মৃতিচারণ করে বলেন, “একসময় সাটুরিয়া বাজারের খাদ্য গুদামের সামনে পর্যন্ত ছিল গাজীখালী নদী। নদী এখন ছোট হয়ে গেছে। খননের নামে ভুয়া প্রকল্পে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আগে নদীতে ছিল শুধু পানি, আর এখন শুধু পানা।”

​পুরো নদী জুড়ে কচুরিপানার জট লেগে থাকার পরও তা সরানোর কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ চোখে পড়েনি। অতিরিক্ত কচুরিপানা পচে নদীর অবশিষ্ট পানি নষ্ট হচ্ছে, ফলে মাছ মরে ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। নদীতে মাছ না থাকায় ঐতিহ্যগতভাবে টিকে থাকা স্থানীয় জেলে পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।

​গাজীখালী নদীর এই করুণ দশা এবং খননকাজের কার্যকারিতা নিয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, “আমি যোগদান করার আগে গাজীখালী নদী পুনঃখননের কাজ হয়েছে, তাই খনন বিষয়ে বিস্তারিত এই মুহূর্তে বলতে পারব না।”
​তবে নদীতে পানি না আসার মূল কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “বর্তমানে গাজীখালী নদীতে পানি না আসার প্রধান কারণ হচ্ছে এর উৎস মুখ। ধলেশ্বরী নদীর গোপালপুর এলাকায় যমুনা নদীর পলি পড়ে মুখটি ভরাট হয়ে গেছে। নদীর উৎসমুখটি পুনরায় খনন করা সম্ভব হলে গাজীখালী নদীতে আবারও পানিপ্রবাহ ফিরে আসবে।”
​নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে নৌপথ চালু এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে উৎসমুখ খনন ও কচুরিপানার জট অপসারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2025 RupkothaTV
Designed & Maintained by PSDCooker