সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার হরগজ বাজারে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে সবেদ আলী ও তার চক্রের বিরুদ্ধে। সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে হরগজ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিল্লাল মার্কেটে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত ব্যবসায়ীর নাম মো. মুরসালিন। তিনি হরগজ বাজারের ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় মুনসের আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ব্যবসায়ী মুরসালিন তার দোকানের পেছনে সবেদ আলীর ছেলেকে মাদক সেবন করতে দেখেন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি ওই যুবককে সমাজ ধ্বংসকারী মাদক সেবন থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ ও বাধা প্রদান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সকাল ১০টার দিকে সবেদ আলী ও তার ছেলেসহ একদল মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ী চক্র লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হরগজ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিল্লাল মার্কেটে মুরসালিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা মুরসালিনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার এবং হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে মুরসালিনকে উদ্ধার করে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, সবেদ আলী ও তার ছেলে ইমরান (১৯) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সাথে জড়িত। তাদের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। একজন ব্যবসায়ী মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় তার ওপর এমন প্রকাশ্য হামলায় পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোঃ মোশাররফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।