বিশেষ প্রতিনিধি।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন নিয়ে এক যুবদল নেতার বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবদুস সালাম দাবি করেছেন, সাংবাদিকদের কাজ করতে হলে স্থানীয় বিএনপির মাধ্যমে কার্যক্রম চালাতে হবে। তবে তাঁর এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সেলিম। এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ওই নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয় প্রেসক্লাব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবদুস সালাম যুবদলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্তব্য করেন, “রিপোর্টাররা কাজ চালাতে গেলে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির মাধ্যমে কার্যক্রম চালাতে হবে।” তাঁর এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। গণমাধ্যমকর্মীরা একে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
এদিকে, এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সেলিম। তিনি সাংবাদিকদের জানান, “সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সদস্য সচিব আব্দুল সালাম যে বক্তব্যটি দিয়েছেন, সেটি তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত। এর সাথে যুবদলের সাংগঠনিক নীতি, আদর্শ বা দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সেলিম আরও বলেন, “বিএনপি বা যুবদল সবসময়ই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী। ব্যক্তি বিশেষের কোনো দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের দায় দল নেবে না।”
অন্যদিকে, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এমন হুমকিস্বরূপ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সালমান খান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা কোনো রাজনৈতিক দলের অধীনস্থ নয়। এ ধরনের বক্তব্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে। আমরা এই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই এবং সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এই ঘটনার পর থেকে পুরো মানিকগঞ্জ জেলা জুড়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা এই ধরনের বক্তব্যের সুষ্ঠু ব্যাখ্যা এবং ভবিষ্যতে নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।