মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।
খাদ্য অধিদপ্তরের আওতায় স্বল্প মূল্যের ওএমএস এর আটা কিনতে নির্ধারিত দিনে ভোর থেকে বৃদ্ধা নারী ও পুরুষসহ গৃহবধুরা দীর্ঘ লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে আটা না পেয়ে খালি হাতে হতাশা ও ক্ষোভ নিয়েই ফিরে যাচ্ছে। চাহিদার চেয়ে যোগান কম থাকায় এই ভোগান্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ট্যাক অফিসার মো. মাকসুদ হোসেন।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় সরকারি বরাদ্দে তিনটি স্পর্ট থেকে প্রতিদিন এক টন আটা ৫ কেজি ১২০ টাকা মূল্যে ২০০ জন দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়। যা চাহিদার তুলনায় অতি নগণ্য।
রোববার সকাল নয়টার দিকে সাটুরিয়া সদরের চর সাটুরিয়ায় রেজা এন্টারপ্রাইজের বিতরণ কেন্দ্রে সরজমিনে যেয়ে দেখা যায়,আটা কিনতে ভোর থেকেই বৃদ্ধা নারী ও পুরুষসহ গৃহবধুরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।ডিলারের লোকজন একজন একজন করে আটা দিচ্ছেন। ভিড় ঠেলে আটা সংগ্রহ করছে আবার অনেককে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা যায়।
উপজেলার সাটুরিয়া ইউনিয়নের বৈলতলা গ্রামের ৬৫ বছরের বয়স্ক মোঃ সোনা মিয়া বলেন,অনেক ভোর থেকে আজ বসে আছি আটা নেওয়ার জন্য।গত কাল দুই থেকে তিন ঘণ্টা বসে থেকে আটা পাইনি।আজকেও পাবো কিনা আল্লাহ জানেন।
কথা হয় উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মারজিনা ৭০ বছরের বৃদ্ধা মহিলার সাথে তিনি বলেন,আমি অনেক গরিব মানুষ সেজন্য এই আটা নিতে আইছি কিন্তু পাঁচ দিন ঘুরেও ১ কেজি আটাও পাইনি।
সেলিনা নামের এক মহিলার সাথে কথা হলে সে বলেন, সেই ফরজ পড়ে ভোরে এসে বসে থেকে আজ আটা পেয়ে ভালো লাগছে।কিন্তু আমার পরে যারা আইয়ছে তারা আটা পাইনাই বলে খারাপ লাখছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ও এম এস ডিলার রেজা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার মো.মহিউদ্দিন রেজা বলেন,আমি সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন প্রতিদিন ৫০০ কেজি করে আটা পাই। যা ১০০ জনের মধ্যে বিতরণ করতে পারি। কিন্তু আমার ডিলার পয়েন্ট এর সামনে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জনের বেশি মানুষ আসে আটা নেওয়ার জন্য। মাঝেমধ্যে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।প্রতিদিন এক টন করে আটা বরাদ্দ পেলে এই সমস্যা কাটিয়েওঠা যাবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ট্যাক অফিসার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো.মাকসুদ হোসেন বলেন,এই ডিলারের সরকারি বরাদ্দ মাত্র ৫০০ কেজি যা ১০০ জনের মধ্যে ৫ কেজি করে বিতরণ করা হয়। চাহিদার তুলনায় খুবই কম বলে জানান তিনি।