মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি,
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বহিস্কৃত বিএনপির মহিলা দলের নেত্রী পলি আক্তার ওরফে রাহা পলি মাহমুদ পলি কেন্দ্রিয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন। মামলাটি গত ৫ অক্টোবর বুধবার মানিকগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন অপরাধ প্রতিরোধ বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ওই নেত্রী। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার তিল্লী ইউনিয়নের পারতিল্লি গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে পলি আক্তারের সাথে বরগুনা সদর উপজেলার মৃত আব্দুল রহিম মুসুল্লির ছেলে ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানের সাথে দলীয় সূত্রে পরিচয় ঘটে এক বছর আগে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যুবদলের বহিস্কৃত নেত্রী পলিকে নিজ বাড়িতে ধর্ষণ করে।
পলি আক্তার মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির যুব মহিলা দলের প্রচার সম্পাদক ও সাটুরিয়া উপজেলা যুব মহিলা দলের সভাপতি ছিলেন। দলের শৃংঙ্খলা ভঙ্গের অভিয়োগে তার পদ স্থগিত করা হয়।
যুবদলের মহিলা নেত্রী পলি আক্তার আমান উল্লাহ আমানকে বিয়ের চাপ দিলে সে বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিষয়টি পলির বাবা আব্দুল কুদ্দুসকে জানালে তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। এরপরও তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর মাসে নিজ বাড়িতে ধর্ষণ করেন ওই ছাত্র দলের নেতা। যুবদলের নেত্রী বার বার বিয়ের চাপ দিলে তাদের অনৈতিক কর্মকান্ড মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় ছাত্র দলের কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান।
পলি আক্তার জানান, অভিযুক্ত ব্যাক্তি নিজেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। পরে সে আমার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়। সে আমাকে তার প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আমাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করে। বিয়ের চাপ দিলে সে নানা তালবাহানা শুরু করে। এরপর সে আমাকে তার সাথে শারীরিক সম্পর্কের কথা কাউকে বললে মোবাইলে ধারণকৃত অনৈতিক কর্মকান্ড ছেড়ে দিয়ে ভাইরাল করার হুমকি দেয়। আমি প্রতারণার শিকার হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। আমি তার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করছি আদালতের কাছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্র নেতা আমান উল্লাহ আমানের সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিসিপ করেননি। পরে তার মোবাইল নম্বরে মামলার বিষয়ে জানাতে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে।