নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় হঠাৎ বয়ে যাওয়া শিলাবৃষ্টি ও ঝড়োবাতাসে ভুট্টা, তামাক, ধান, গম ও সবজি চাষীরা হতাশ। উপজেলার হরগজ,তিল্লী, দিঘুলিয়া ও বরাইদ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে আবাদ করা জমির তামাক পাতা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের সবজি শিলাবৃষ্টির আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়োবাতাসে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে মোচাসহ ভুট্টা গাছ। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার কৃষকরা।
গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়োবাতাসের তাণ্ডবে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। কৃষকরা সকালে সরেজমিনে গিয়ে দীর্ঘ শ্বাস আর আর্তনাথ জানিয়ে ঘরে ফিরেই ভেঙে পড়েছে অনেকে। কাঙ্খিত ফলন না পাওয়ার শঙ্কায় দিশেহারা কৃষকরা। বর্তমান সময়ে খরচের তুলনায় লাভ খুব সামান্য তাও ঝড়োবাতাস আর শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে চাপাকান্না রখন তাদের চোখে মুখে।
বৃহষ্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায়, সাভার, হামজা, আগ সাভার, খলিশাডহরা, বরাইদ, চারিকিত্তাসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠের পর মাঠ তামাকের বড় বড় পাতাগুলো শিলার আঘাতে ছিদ্র হয়ে ঝরে পরেছে, তেমনি ভুট্টা মাটিতে নুয়ে পড়েছে, অনেক গাছ ভেঙে গেছে। বসতবাড়ির সবজি গাছের পাতা ছিদ্র হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে নষ্ট হয়েগেছে আমের মুকুল। অনেক স্থানে গাছগুলো ভেঙে মাটিতে নুয়ে আছে। তবে তামাকের পাতা ছিদ্র হয়ে গেলে তা আর বিক্রির যোগ্য থাকে না, ফলে অধিকাংশ ফসলই এখন অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
হরগজ ইউনিয়নের ভুট্টা চাষী মানোয়ার হোসেন বলেন,৩ বিঘা ভুট্টা চাষ করেছি এর মধ্যে দুই বিঘা জমির ভুট্টা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের খলিশাডহরা এলাকার তামাক চাষী সুজন আক্ষেপ করে বলেন, এবার চার লক্ষ টাকা ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে জমি বর্গা ও বছর আবাদের চুক্তিতে প্রায় ১৮ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছি। গতকাল বিকেল ও রাতে প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টিতে তামাকের পাতা ছিড়ে গেছে। তাতে আনুমানিক প্রায় তিন লক্ষ টাকার পাতা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অবশিষ্ট যা আছে বিক্রি করে লাভ তো দুরের কথা ধরদেনা ও ঋণ শোধানোই দায় হয়ে যাবে।
সাভার এলাকার ভুট্টা চাষী নূর মোহাম্মদ বলেন, এবার প্রায় চার বিঘা জমিতে ভুট্টা রোপন করেছি। ফলনও খুব ভাল হয়েছিল। কিন্তু গতকালের শিলাবৃষ্টি আর ঝড়োবাতাসে প্রায় দুই বিঘা জমির মুচাসহ ভুট্টা গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে, কত গাছ ভেঙে গেছে। সরকার যদি আমাদের ক্ষতি নির্ধারণ করে পুষিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতো তাহলে কৃষকরা বড় আবাদে কিছুটা স্বস্তি পেত।
আগ সাভার এলাকার তামাক চাষী তারেক আহম্মেদ বলেন, এবার এক লাখ টাকা ধারদেনা করে প্রায় ছয় বিঘা জমিতে তামাকের আবাদ করেছি। বেশির ভাগ পাতাই শিলাবৃষ্টিতে ছিড়ে গিয়ে কেবল পাতার ডাণ্ডি অবশিষ্ট আছে। এগুলো হয়তো বিক্রিই করা যাবে না। এবার লাভ তো দুরের কথা উল্টো ৮০ টাকা লোকসানের মুখে পড়ে গেছি। আমাদের মত কৃষকদের ঈদের আনন্দ এবার আহাজারিতে পরিণত হয়েছে।
সাভার গ্রামে আকলিমা বলেন, বাড়ির আঙিনায় দেশী লাউ গাছ রোপন করেছি। সবে মাত্র লাউ আসা শুরু করেছে। এরই মাঝে শিলাবৃষ্টিতে লাউ গাছের ডগা ও পাতা ভেঙে গেছে। ফুলগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, গতকালের শিলাবৃষ্টি ও ঝড়োবাতাসে ধান ১৩ হেক্টর, গম ২.৫ হেক্টর, ভুট্টা ৮২ হেক্টর এবং সবিজ ৯.৫ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্থ্য ফসল নিরূপনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। কৃষকদের ফসলের ক্ষতিগ্রস্থের ধরণ ও পরিমাণ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।