বিশেষ প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ:
বন্ধ ফ্লাওয়ার মিল দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মেসার্স খন্দকার ফ্লাওয়ার মিলস্-এর মালিক হাসান খন্দকারের বিরুদ্ধে। পাওনাদারদের দায়ের করা একাধিক মামলায় আদালত ইতোমধ্যে তাকে ২২ মাসের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন আদালতে তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি প্রতারণা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত হাসান খন্দকার শিবালয় উপজেলার নিহালপুর গ্রামের মৃত ইয়ার আলী খন্দকারের ছেলে।
আদালত সূত্রে প্রাপ্ত প্রধান মামলা ও সাজাগুলোর বিবরণ
- ১ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড: মানিকগঞ্জের যুগ্ম দায়রা জজ ৫ম আদালত গত ২৭ জুলাই এক রায়ে হাসান খন্দকারকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দৌলতপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আল মামুনের কাছ থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেন তিনি। পরবর্তীতে পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া ব্যাংক চেকটি ডিজঅনার হলে আদালত এই রায় দেন।
- মিল দখল ও ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি: পাবনার বেড়া উপজেলার জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, ৩০ নভেম্বর ফ্লাওয়ার মিল ও গোডাউন ৫ বছরের জন্য ভাড়া দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে জামানত বাবদ ৬ লাখ টাকা নেন হাসান খন্দকার। তবে মাত্র ৮ মাস মিল পরিচালনার পর জাহাঙ্গীর আলমের কর্মচারীদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয় এবং মিলের ৭৫ লাখ টাকার গম, আটা ও মালামালসহ পুরো মিল দখল করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
- ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য প্রতারণা: দি মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক থেকে ২২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ১০ লাখ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন তিনি। ব্যাংকের পাওনা বাবদ দেওয়া চেক ডিজঅনার হওয়ায় ২০২২ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা (নং-১২৫৮/২০২২) হয়। এছাড়া শিবালয় উপজেলার মদন সাহার ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অপর একটি মামলা (নং-৬৬৬/২১) বিচারাধীন।
এ জাতীয় আরো খবর..