শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দীর্ঘ ৩৩ বছরের কর্মজীবনের ইতি: দৌলতপুরে পুলিশ সদস্য মফিজুর রহমানকে রাজকীয় বিদায় দৌলতপুরে নদীভাঙন তীব্র: ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা বহু পরিবার, হুমকির মুখে স্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মানিকগঞ্জে মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নুর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকীতে জেলা পেশাজীবী দলের শ্রদ্ধা ও কবর জিয়ারত ​”পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার”​সাটুরিয়ার ঐতিহাসিক বালিয়াটি জমিদার বাড়ি পরিদর্শনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মানিকগঞ্জে পুকুর থেকে বৃদ্ধের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার দৌলতপুরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের মানবিক সহায়তা প্রদান করেন- শায়লা কবির মানিকগঞ্জে সাগর হত্যার রহস্য উদঘাটন: পিবিআইয়ের হাতে প্রধান আসামি গ্রেফতার দেশীয় মাছ রক্ষায় সিংগাইরে ভ্রাম্যমাণ আদালত: বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস সাটুরিয়ায় ঘুমন্ত যুবকের শরীরে এসিড নিক্ষেপ, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীসহ অভিযুক্ত ৪ শিবালয়ে বন্ধ ফ্লাওয়ার মিল দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: মালিকের কারাদণ্ড ও একাধিক মামলা

অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ আলমগীরের জীবন এখন শিকল বন্দি।

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪০ বার

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার শেখরীনগর গ্রামের এক তরুণ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। অসচ্ছলতার কারণে অর্থের অভাবে মেধাবী এই তরুনের চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে ।সঠিক চিকিৎসা না দিতে পেরে রুম বন্দি করে রেখেছে ওই তরুণের পরিবার। ফলে আলমগীরের জীবনে এখন শিকল বন্দি।
এই বন্দি জীবন সমাজের বিবেককে প্রশ্ন করে আর কত দিন শিকলে বাঁধা থাকবে আলমগীর ? দরিদ্র্য ও অসহায় আলমগীরকে শিকল থেকে মুক্ত করে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা।

পারিবার ও স্থানীয়রা জানান, রুবিয়া-আওলাদ দম্পতির এক মেয়ে ও তিন ছেলে সন্তানের মধ্যে আলমগীর মেঝো।ছোট বেলা থেকেই আলমগীর পড়া-লেখায় ভালো ছিলো। ২০১৭ সালে এসএসসি (বাণিজ্য) এবং ২০২০ সালে এইচএসসি (মানবিক) বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন।কিন্তু হঠাৎ করেই আলমগীরের মানসিক পরিবর্তন শুরু হয় এক পর্যায়ে সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। বর্তমানে তাকে শিকল বন্দী করে রাখতে বাধ্য হয়েছে পরিবার ।
হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া ওই ভারসাম্যহীন আলমগীরের বয়স ২৬ কিংবা ২৭ হবে। তার যৌবন আজ মরিচা পড়া লোহার শিকলে বন্দি। গত পাঁচটি বছর যাবৎ ভাঙ্গাচুরা টিনের ঘড়ের ছোট্ট একটি রুমে কাটছে তার শিকল বন্দি জীবন।
মানসিক ভারসাম্যহীন আলমগীর হোসেনের মা রুবিয়া খাতুন বলেন,ওর (আলমগীরের) বাবা নেই,পাগল পোলাডারে নিয়ে কোন মতে বেঁচে আছি। সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সামান্য ভাতা ১৫ টাকা দরে ৩০ কেজির এক বস্তা চাউল দিয়ে কোন মতে চালাই আমাদের সংসার।যেখানে তিন বেলা পেট ভরে খাইতে পারি না সেখানে ছেলে (আলমগীর) কে চিকিৎসা করামো কিভাবে? আলমগীরের চিকিৎসার্থে দেশের বৃত্তশালীদের নিকট সাহায্যের আবেদন জানান তিনি।

প্রতিবেশী মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, আলমগীরের পরিবারটি খুবই অসহায় ও অসচ্ছলতার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাবে সেই অবস্থাটুকু নাই। মেধাবী শিক্ষার্থী আলমগীর হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সমাজের বিত্তশালী যারা আছেন তারা যদি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তবে ওর ( আলমগীর) সুচিকিৎসা করা সম্ভব।
রাহেলা বেগম নামের ষাটোর্ধ এক নারী বলেন, সারাটা জীবন শুধু আলমগীরের মা কষ্ট করেই গেলো। ছোট থেকে বড় করলো সন্তানদের অনেক কষ্ট করে,গত পাঁচ বছর আগে স্বামীটা স্ট্রোক করে মারা গেলো,ছেলে পাগল হলো। ওদের সংসারটা কেমনে চলে তা এক আল্লাহ জানেন,এক বেলা খাইলে আরেক বেলা খায়তে পারে না। সব গুলো ছেলে ছোট ছোট, যে বড় সেই পাগল হয়ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ( মেম্বার ) আব্দুল লতিফ বলেন,আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলে বন্দি জীবন কাটছে। এমনিতেই ওরা দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে তার মধ্যে বাবাটা মারা গেছে কয়েক বছর আগে। সরকারি ভাবে ১৫ টাকা কেজি চাউলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে তবে পেট পুরলেও চিকিৎসা করাটা অসম্ভব। যার কারণে সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে আসলে সম্ভাবনাময় এই তারুন্যকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মামুন উর রশিদ বলেন, আলমগীর আসলে ডিপ্রেশনে ভুগছেন তবে দীর্ঘদিন এই রোগে আক্রান্ত হলে সিজোফ্রেনিয়া হওয়ায় সম্ভবনা আছে। তবে এটি অন্য রোগের মতোই চিকিৎসায় নিরাময় যোগ্য। দ্রুত সঠিক চিকিৎসা পেলে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীদের একটি বড় অংশকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও মনে করেন এই চিকিৎসক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2025 RupkothaTV
Designed & Maintained by PSDCooker