নিজস্ব প্রতিবেদক, রূপকথার টিভি
চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের দুই দিনের মাথায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জুমবাংলা ডটকমের সম্পাদক ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মানিকগঞ্জ সদর থানা আমলি আদালতে দণ্ডবিধির ৪৯৯, ৫০০ ও ৫০৬(২) ধারায় মামলাটি করা হয়। গত ২৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বাসিন্দা মো. তমাল চাকরি দেওয়ার কথা বলে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে জুমবাংলা ডটকম। একই অভিযোগ নিয়ে দৈনিক আজকের পত্রিকা, প্রথম আলো ও যুগান্তরসহ একাধিক গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। মামলার অভিযোগে আরিফুল ইসলাম দাবি করেছেন, প্রকাশিত সংবাদে তাঁর দুই কোটি টাকার মানহানি হয়েছে, তাঁর বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং সংবাদটি মিথ্যা। তবে জুমবাংলার প্রতিবেদকের দাবি, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ ও বক্তব্য, অভিযুক্ত নেতার বক্তব্য, তাঁর বাবা এবং পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল। সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রকাশিত সংবাদে প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনো মতামত দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এরপরও এ ধরনের মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মামলা সাংবাদিকদের হয়রানি ও তাঁদের কলম-কণ্ঠ রোধের চেষ্টা হিসেবে প্রতীয়মান। মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, পেশাদার সাংবাদিকেরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হলে প্রেসক্লাব তাঁদের পাশে থাকবে। সংবাদ প্রকাশের জেরে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি করা উচিত নয়। সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। জুমবাংলা ডটকমের ২৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিং সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তমালের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তমালের দাবি, তাঁকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে এস এফ ট্রেড লিমিটেডের প্যাডে নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়েছিল। তবে হাসপাতালে যোগ দিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে কোনো নিয়োগ হয়নি। তমাল অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি মানিকগঞ্জ সদর থানা ও এনসিপির জেলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অন্যদিকে, আরিফুল ইসলাম অভিযোগকে অসত্য ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেছিলেন, তদন্তেই এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে। তাঁর বাবা মো. নুরুল ইসলাম জানান, তাঁর ছেলের চাকরি দেওয়ার কোনো যোগ্যতা নেই এবং এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এনসিপির মানিকগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম তখন জানিয়েছিলেন, অভিযোগ যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেছিলেন, লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে এস এফ ট্রেড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. শামীম হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। মামলার অভিযোগ ও চাকরির নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পৃথক বিষয়। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি এখানে অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে; এর সত্যতা তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।