নিজস্ব প্রতিবেদক, রূপকথা টিভি :
বদলিজনিত কারণে বিদায়লগ্নে এসেও পেশাগত দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানজিলা ফেরদৌসী। দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা কিংবা বিদায়ের অবসাদ তাকে সাধারণ মানুষের সেবা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি; বরং শেষ কর্মদিবসের প্রতিটি ক্ষণ তিনি ব্যয় করেছেন খামারি ও সুফল ভোগীদের সেবায়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ছিল ডা. তানজিলা ফেরদৌসীর সাটুরিয়া উপজেলায় কর্মজীবনের শেষ কার্যদিবস। এদিন সকাল থেকেই তার কার্যালয়ে ছিল ভিন্ন এক চিত্র। বিদায়ের বার্তা শুনে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে এসেছিলেন অনেক খামারি ও সাধারণ সেবাগ্রহীতা। তাদের কাউকে নিরাশ করেননি এই কর্মকর্তা। শেষ দিনটিতেও তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে খামারিদের সমস্যা শোনেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন এবং দাপ্তরিক ফাইলপত্র ও সেবা কার্যক্রমের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করেন।
খামারি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডা. তানজিলা ফেরদৌসী সাটুরিয়া উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই প্রান্তিক খামারিদের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা প্রকৃত সুফল ভোগীদের কাছে পৌঁছাতে তিনি সবসময় স্বচ্ছতা ও তৎপরতা বজায় রেখেছেন। তার এমন কর্মনিষ্ঠা ও আন্তরিক আচরণ স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
শেষ কর্মদিবসে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ডা. তানজিলা ফেরদৌসী জানান, সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে বদলি একটি রুটিন ওয়ার্ক। তবে সাটুরিয়ার মানুষ, খামারি এবং সহকর্মীদের যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, তা আমার হৃদয়ে চিরকাল গেঁথে থাকবে। দায়িত্বের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের সেবা করা আমার নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করি। আমি যেখানেই যাই না কেন, সাটুরিয়ার খামারিদের কল্যাণ ও প্রাণিসম্পদ খাতের অগ্রগতি আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
তার এই বিদায়লগ্নে কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বিশিষ্টজনেরাও তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বশীল ও জনমুখী মনোভাব প্রশাসনের অন্যান্য স্তরের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুধীসমাজ।