মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বাড়ির সামনের ডোবা থেকে লক্ষ্মী রাজবংশী (৯৫) নামের এক প্যারালাইজড বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে সাটুরিয়া থানা পুলিশ।বিষয়টা নিশ্চিত করেছেন সাটুরিয়া থানার ওসি মো. শাহিনুল ইসলাম।
সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব বটতলা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির সামনের ডোবার পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী থানায় খবর দেয়। পরে সাটুরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের ছেলে ঝন্টু রাজবংশী বলেন,
“রবিবার রাত একটার দিকে মায়ের ঘরে গিয়ে তাকে না পেয়ে সারারাত খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পাইনি। সকালে দেখি বাড়ির সামনের ডুবায় মায়ের লাশ ভেসে আছে।”
এলাকার বাসিন্দা লিমন কাজী বলেন,লক্ষ্মী রাজবংশী পাঁচ বছর ধরে প্যারালাইজড অবস্থায় ছিলেন। তার হেঁটে যাওয়ার সক্ষমতা ছিল না। তাই তিনি নিজে কিভাবে ডোবার কাছে গেলেন, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। আমরা এ ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
প্রতিবেশী রানী রাজবংশী বলেন,তিনি দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন, হাঁটতে পারতেন না। ডোবার কাছে গিয়ে পড়া অসম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
নিহতের বড় মেয়ে কামনা রাজবংশী জানান, আমার মা দুই বছর ধরে আমার সঙ্গে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ছিল। আমার তিন ভাইয়ের কেউ মায়ের ভরণ-পোষণ করত না, তাই আমি মাকে নিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু আট দিন আগে বড় ভাই রঞ্জিত এসে মাকে নিয়ে যায়। এখন তার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়াই কাল হলো।”
স্থানীয় প্রণব দাস বলেন,লক্ষ্মী রাজবংশীর তিন ছেলের কেউই তার দেখাশোনা করত না। বড় মেয়ে তাকে নিজের শ্বশুরবাড়িতে রেখে দেখাশোনা করছিল। কয়েকদিন আগে বড় ছেলে রঞ্জিত তাকে নিয়ে আসে, এরপরই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।”
সাটুরিয়া থানার ওসি মো.শাহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন বলেন , আমরা ঘটনার সত্যতা বের করার চেষ্টা করছি এবং খুব তাড়াতাড়ি মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনাটি বের করতে পারবো বলে আশা করছি।