মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ হেফাজত ইসলামের নায়েবে আমীর আব্দুল হামীদ বলেছেন,বাউলদের ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ বন্ধ না করলে ৬৪ জেলায় এক সাথে আন্দোলন ও সমাবেশ করা হবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আলেম ওলামাদের গ্রেফতার করলে ডিসি,এসপিদের খোলা মাঠে বিচার করা হবে।
তিনি গত শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ হেফাজত ইসলাম মানিকগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে মানিকগঞ্জ বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৫ দফা দাবিতে শানে তাওহীদ মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ১৭ অক্টোবর ডক্টর ইউনুস সরকার ঘোষিত লালন তিরোদান দিবস বাতিল করতে হবে। দেশে এখন লালনের মুর্তি তৈরি করা হয়েছে, এখন তার পুজা করা হয়। ডক্টর ইউনুস সরকার কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ডক্টর ইউনুস সুদখোর ও নিমক হারামি। এটা মুরদা ও নাস্তিক সরকার, আওয়ামী লীগের চাইতে ও খারাপ।
এসময় মানিকগঞ্জ জেলা হেফাজত ইসলামের সভাপতি মাওলানা সাঈদ নূর এর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস শেখ সালাহউদ্দিনসহ জেলার আলেম ওলামা মসজিদের ইমাম খতিব ও বিভিন্ন ইসলামি সমমনা দলের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা অনতিবিলম্বে আবুল সরকারের ফাঁসি ও বাউলদের সকল গানের আসর বন্ধের দাবি জানান।
উল্লেখ্য মহান আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে আবুল সরকারের বিচার দাবিতে ২৩ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে তৌহিদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। একই দিন বেলা ১১ টার দিকে আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বাউল সমর্থকরা।
বেলা ১১টার দিকে শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠের পাশে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় তৌহিদী জনতার একটি অংশ। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বাউল সমর্থক শিল্পী আলিম, আরিফুল ও জহিরুলসহ চারজন আহত হন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অপরদিকে তৌহিদী জনতার পক্ষেও একজন আহত হন।
মানিকগঞ্জে বাউল সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত তৌহিদী জনতাকে আসামি করে সদর থানায় ২৪ নভেম্বর অভিযোগ করেছেন আহত আব্দুল আলীম।