সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সারা দেশের ন্যায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে এলাকায় ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও দেখা দিয়েছে।
তীব্র শীত থেকে বাঁচতে গ্রামীণ জনপদে মানুষ কাঠের লাকড়ি জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর মাধ্যমে উষ্ণতা খোঁজার চেষ্টা করছেন।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন আগামী কয়েকদিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে।
সরেজমিনে রোববার সকাল ৯টার দিকে যেয়ে দেখা যায় ,মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার রাস্তা ও বাজার ঘাটে শিশু ও বৃদ্ধরা দলবেঁধে আগুনের কুণ্ডলী তৈরি করে শীত নিবারণ করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তা না হলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই শীত অতিবাহিত করা কষ্টকর হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মোড়ের সিএনজি চালক আব্দুস সামাদের সাথে কথা হয় তিনি বলেন, এই তীব্র শীতে প্রয়োজন না হলে কেউ রাস্তা খাটে বের হচ্ছে না। এখন বাজে নয়টার উপরে বসে আছি যাত্রীর আশায়।যাত্রী নেই তাই আগুনের কুণ্ডলী নিয়ে স্ট্যান্ড মোড়ে বসে শীত নিবারন করছি।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে বিশেষ করে মানুষের নিউমোনিয়া, সর্দি কাশি, ফ্লু, ব্রঙ্কিওলাইটিস, ডায়রিয়া, চর্ম রোগ ইত্যাদি রোগের প্রার্দুভাব দেখা যাচ্ছে। এদের মধ্যে সব চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। তবে এসব রোগের সঠিক চিকিৎসা সেবা ও ঔষধপত্র পর্যপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছে বলে জানান তিনি।
তিনি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও জানান ঠান্ডা থেকে বেঁচে থাকার জন্য পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করা, ধুলাবালি থেকে দূরে থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, গরম ও টাটকা খাবার খাওয়া, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেলে চলতি মৌসুমে শীত জনিত রোগবালাই অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।