মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত অভিযানে সম্প্রতি ঢাকায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান, হইচই সৃষ্টি এবং মার্কেট বন্ধের হুমকির মতো অনভিপ্রেত ঘটনার প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মানিকগঞ্জ জেলা কমিটি।
এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং বাজার তদারকিমূলক অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করে ক্যাব জেলা কমিটি।
রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে নানা দাবী তুলে ধরেন ক্যাব জেলা কমিটির সদস্যরা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, মানিকগঞ্জ জেলায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় থেকে পরিচালিত বাজার তদারকিমূলক অভিযানগুলো যেন নিরাপদ, কার্যকর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয় জোরদার করা জরুরি।
ক্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকায় সৃষ্ট পরিস্থিতি ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বাধা, উসকানি কিংবা মার্কেট বন্ধের হুমকি শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই বিঘ্নিত করে না, বরং বাজার ব্যবস্থাপনাতেও অস্থিরতা তৈরি করে।
ক্যাবের দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে—
বাজার অভিযানে সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক বাধা, হুমকি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম জোরদার করা।
ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে সতর্কতা, নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ।
ঢাকায় সৃষ্ট অনভিপ্রেত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্যাব মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির উপদেষ্টা ও মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, ক্যাবের সভাপতি এবিএম শামসুন্নবি তুলিপ, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আবুল বাসার আব্বাসী, ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক এ এস এম সাইফুল্লাহ, নির্বাহী সদস্য শাহীন তারেক, জাহিদুল হক চন্দন, সোহেন হোসেন, হাসান শিকদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রশাসনের সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মানিকগঞ্জে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে ক্যাব নেতাদের এটাই প্রত্যাশা।