মোঃ শাহ আলম, স্টাফ রিপোর্টার :
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ের জমি কৌশলে লিখে নিয়ে বাড়িঘর, স্বর্ণালংকার ও জায়গা-জমি আত্মসাৎ করার অভিযোগে মা রুমা আক্তার ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রবিজ্জল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের প্রবাসী মোরশেদ আলমের স্ত্রী রুমা আক্তার তার প্রতিবন্ধী মেয়ে ইসরাত জাহান রিমির ১৯.১০ শতাংশ জমি হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে মেয়ে রিমির স্বামীর নাম গোপন করে দলিল লেখক রবিজ্জল মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রতিবন্ধী রিমির জমি মা রুমা আক্তারের নামে লিখে দেন।
গত ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে দলিল লেখক রবিজ্জল হোসেন সাব রেজিস্টার কে দিয়ে রুমা আক্তারের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবন্ধী রিমির স্বামী মঈন আহম্মেদ বাদী হয়ে ১ নং বিবাদী মোরশেদ আলমের স্ত্রী রুমা আক্তার,পিতা : রফিকুল ইসলাম,সাং কুমুরিয়া, ইউনিয়ন খলসী,২নং বিবাদী সমেতপুর গ্রামের শুকচান মোল্লার ছেলে রবিজ্জল,৩ নং আসামী রহুল আমিন (৪৫),৪ নং আসামী সুমী বেগম, স্বামী -রহুল আমিন,সাং কুমুরিয়া,৫ নং আসামী শিপন মোল্লা (৩০)পিতা আমির হোসেন,সাং ভুগোলহাট, থানা নাগরপুর, জেলা টাঙ্গাইল, ৬ নং আসামী রওশন আর (৪০) স্বামী আজমত আলী,সাং কুমুরিয়া, ইউনিয়ন খলসী, থানা দৌলতপুর জেলা মানিকগঞ্জ।৭ নং আসামী তানিয়া সুলতানা
সাব-রেজিস্ট্রার, দৌলতপুর সহ ৭ জনকে আসামি করে আদালতে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত রুমা আক্তার মেয়ে ইসরাত জাহান রিমির ১৯.১০ শতাংশ জমি গত ২৭ জুলাই ২০২৫ লিখে নিয়ে সংসারের সকল সম্পত্তি ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। বাবার বাড়ীতে চলে যায়।পরে বাবার বাড়িতে থেকে ২২ এপ্রিল ২০২৬ রুমা আক্তারের স্বামী মোরশেদ আলম কে ডিভোর্স প্রদান করে।
পরে রিমির স্বামী মঈন আহম্মেদ গত ২৪ মে ২০২৬ মানিকগঞ্জ কোটে মামলা দায়ের করেন।মামলা নং ১৫৮ ।
১৪ ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ উক্ত মামলার নির্ধারিত দিনে আসামিরা বিজ্ঞ আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে রুমা আক্তার ও দলিল লেখক রবিজ্জল হোসেনকে হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এবিষয়ে রিমির চাচা খোরশেদ আলম বলেন বাদী আমার ভাতিজি জামাই আর ১ নং বিবাদী আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আমার ভাতিজি ইশরাত জাহান রিমি একজন বাক প্রতিবন্ধী। আমার ভাই মোরশেদ আলম একজন কুয়েত প্রবাসী আমার ভাই হেবা ঘোষণা মুলে ১৯.১০ শতাংশ জমি আমার ভাতিজির নামে দলিল করে দেয়। আমার ভাইয়ের বৌ আমার ভাতিজি কে ভুল বুঝিয়ে গত ২৭ শেষ জুলাই ২০২৫ সাব- রেজিস্টার অফিসে নিয়ে ২ নং আসামী দলিল লেখক রবিজ্জল ও ৭ নং আসামী তানিয়া সুলতানাকে ভুল বুঝিয়ে ৩ নং ও ৬ নং বিবাদীর কু-পরামর্শে ১ নং বিবাদী রুমা আক্তার ১৯.১০ শতাংশ জমি লিখে নিয়ে প্রতারণা করে।এসময় আমার ভাতিজির বাপের বাড়ি রেখে যাওয়া ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার যার আনুমানিক মূল্য ৪৪ লক্ষ টাকা এবং আমার ভাইয়ের বিদেশ থেকে পাঠানো ১২ লক্ষ টাকা নিয়ে আমার ভাবি চুরি করে নিয়ে গত ২৭ শে জুলাই ২০২৫ তাহার পিতার বাড়িতে চলে যায়।
এসকল প্রতারণার সুস্থ্য বিচার চাই।
এবিষয়ে বাদী মঈন আহম্মেদ বলেন আমার স্ত্রী ইশরাত জাহান রিমি বাক প্রতিবন্ধী তাকে আমার শাশুড়ি রুমা আক্তার ভুল বুঝিয়ে সাব -রেজিস্টার অফিসে নিয়ে স্বামীর নাম গোপন করে তার নামে থাকা ১৯.১০ শতাংশ জমি দলিল লেখক রবিজ্জল ও সাব রেজিস্টার তানিয়া সুলতানাকে মিথ্যা বুঝিয়ে প্রতারণা করে জমি লিখে নেয়। এবং আমার স্ত্রী ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ও আমার শশুর বিদেশে থেকে পাঠানো ১২ লক্ষ টাকা নিয়ে বাবার বাড়িতে গিয়ে আমার শশুর কে ডিভোর্স দেয় । আমি এই প্রতারণার বিচার চাই।
এবিষয়ে সাব-রেজিস্টার তানিয়া সুলতানা বলেন সকল কাগজপত্র ঠিক থাকায় নিয়ম অনুযায়ী জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে।