সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিংগাইরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন দৌলতপুরে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে বিশাল জনসভার আয়োজন ​দৌলতপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় যুব দিবস পালিত সাটুরিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘জাতীয় যুব দিবস-২০২৬’ পালিত দুর্নীতিমুক্ত ও আদর্শ হরগজ ইউনিয়ন গঠনে পরিবর্তনের ডাক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফরিদ(শফিক) মৃধার সাটুরিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দুর্নীতিমুক্ত ও আদর্শ হরগজ ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে: চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. ফরিদ মৃধা (শফিক)-এর মুখোমুখি দিশারী’র আয়োজনে “সমতার তারুণ্য” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ঘিওরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি: তিন দোকানকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা সাটুরিয়ার বিদায়ী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানজিলা ফেরদৌসীকে সংবর্ধনা

দৌলতপুরে নদীভাঙন তীব্র: ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা বহু পরিবার, হুমকির মুখে স্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫৭ বার

​মোঃ শাহ আলম, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের বড় লাউতারা ও ছনপাড়া গ্রামে যমুনা নদীগর্ভে একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো। নদীপাড়ের মানুষগুলোর এখন রাত কাটছে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগে। সম্বল হারিয়ে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।

​গত কয়েকদিনের আকস্মিক ভাঙনে বড় লাউতারা ও ছনপাড়া গ্রামের অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। বাপ-দাদার স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এসব পরিবার।

​ভিটেমাটি হারিয়ে অশ্রুসজল চোখে ক্ষতিগ্রস্ত মোকছেদ আলী ও ইসলাম উদ্দিন বলেন,

​”নদীর পেটে সব শেষ হয়ে গেছে, আমরা পুরোপুরি দিশেহারা। চোখের সামনে বাপ-দাদার শেষ স্মৃতিটুকুও রক্ষা করতে পারলাম না। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কী করব—কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমাদের মতো আর কেউ যেন এভাবে গৃহহীন না হয়, তার জন্য মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য জিন্নাহ কবির ভাইয়ের কাছে আমরা বিনীত আকুতি জানাচ্ছি।”

​হুমকির মুখে ২০০ পরিবার ও প্রতিষ্ঠান

স্থানীয় অধিবাসী আহাম্মদ আলী উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে জানান, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বড় লাউতারা ও ছনপাড়ার প্রায় ২০০টি পরিবার সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়বে। এছাড়া গ্রামের একমাত্র প্রধান সংযোগ সড়ক, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়া এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।

​স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম বলেন, মাত্র ৫০০ ফুট জায়গায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হলে এই ২০০টি পরিবার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।

​জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর আকুল আবেদন

জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আতোয়ার রহমান জানান, নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও বিষয়টির সার্বিক চিত্র জানানো হয়েছে।

​এখন যমুনা তীরের নদীকবলিত মানুষের একটাই দাবি—সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির ও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপেই কেবল রক্ষা পেতে পারে তাদের অবশিষ্ট ভিটেমাটি ও সম্পদ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2025 RupkothaTV
Designed & Maintained by PSDCooker