মোঃ শাহ আলম, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ):
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে রূপ নিয়েছে প্রলয়ংকরী নদীভাঙন। যমুনা নদীর শাখা নদীর তীব্র তোড়ে উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের বেন্যা গ্রাম, বিখ্যাত আমতুলী বাজার ও দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিশাল এলাকা এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার চরম ঝুঁকিতে। ইতোমধ্যে আকস্মিক ভাঙনে বেন্যা গ্রামের ১০-১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। বসতভিটা ও শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে বেন্যা গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবার সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়বে। এছাড়া চরম হুমকির মুখে রয়েছে এলাকার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘আমতুলী ফেদু সেক উচ্চ বিদ্যালয়’, ‘আমতুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’, দৌলতপুরের শ্রেষ্ঠ গরুর হাট হিসেবে পরিচিত ‘আমতলী হাট’ এবং এর প্রায় তিন শতাধিক দোকানপাট। নদী থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে থাকা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। সেই সাথে গ্রামের একমাত্র প্রধান সংযোগ সড়ক, মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান বিলীন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অশ্রুসজল চোখে জিয়নপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, “নদীর ভাঙনে আমরা পুরোপুরি দিশেহারা। চোখের সামনে বাপ-দাদার শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষা করতে পারছি না। পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না। আমাদের বেন্যা গ্রামের ২০০ পরিবার ও আমতুলী বাজার-স্কুল রক্ষায় মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির ভাইয়ের কাছে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার বিনীত আকুতি জানাচ্ছি।”
ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম জানান, জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বা সাময়িক প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে কয়েকদিনের মধ্যে পুরো বেন্যা গ্রাম ও আমতুলী হাট মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হবি বলেন, “মাত্র ৫০০ ফুট এলাকায় দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা হলে এই ২০০টি পরিবার, ঐতিহ্যবাহী গরুর হাট এবং দুটি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।”

সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম আকুতি জানিয়ে বলেন, “আর মাত্র ৭ দিন এভাবে ভাঙন চললে আমার বাড়িসহ পুরো এলাকা নদীতে তলিয়ে যাবে। অনতিবিলম্বে সরকারি পদক্ষেপ দরকার।”
এ বিষয়ে জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আতোয়ার রহমান জানান, নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবিরকে সার্বিক বিষয় অবহিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ ও পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে যমুনার গ্রাস থেকে নিজেদের অবশিষ্ট ভিটেমাটি ও সম্পদ রক্ষায় নদীপাড়ের হাজারো মানুষ সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।