মোঃ শাহ আলম,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
২০২০ সালের পর ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চরম ফলাফল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দৌলতপুর সরকারি মতিলাল ডিগ্রি কলেজ। প্রকাশিত ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির গড় পাসের হার মাত্র ১৩.৫৪ শতাংশ, যা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও মহলে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কলেজটি থেকে এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৩৬২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৪৯ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ৩১৩ জন। শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই ফেল করেছেন ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে।
অধ্যক্ষের ব্যাখ্যা ও নানা প্রতিকূলতা
ফলাফলের এই নজিরবিহীন ধসে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সত্যজিৎ দত্ত জানান, এ বছর সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও কঠোর পরিবেশে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে তিনি শিক্ষক-স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে অতিথি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। এছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে কলেজে সেনাক্যাম্প স্থাপন করায় পুরোপুরি সিলেবাস শেষ করা সম্ভব হয়নি এবং নির্বাচনী পরীক্ষা অন্য স্কুলে নিতে হয়েছিল। ভবিষ্যতে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শিক্ষকদের ভিন্নমুখী বক্তব্য ও বিতর্কের সৃষ্টি
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে গিয়ে শিক্ষকদের বক্তব্যে নানা অসঙ্গতি ও ভিন্নমত পাওয়া গেছে, যা নিয়ে জনমনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রভাষক শাহানুর ইসলাম (ইংরেজি): এই ফলাফলে নিজের লজ্জা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে এই দায়ভার তার ওপরও বর্তায়। তবে তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিল। অন্য একটি স্কুলে নির্বাচনী পরীক্ষায় ৩৬ জন পাস করলেও ২৬২ জনের ফরম পূরণ করা হয়েছিল। যদি দুর্বল শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ না করা হতো, তবে শতভাগ পাসের সাফল্য আসত বলে দাবি করেন তিনি।
প্রভাষক মো. নিয়ামত উল্লাহ (ইংরেজি): অপর ইংরেজি শিক্ষক ফলাফলের পেছনে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে জানান, কলেজটি সদরে অবস্থিত হলেও এখানে চর অঞ্চলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। বর্ষা মৌসুম ও নদী ভাঙনের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে পারেনি। তাছাড়া করোনা মহামারীর সময়ে অটোপাস এবং শর্ট সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ায় এই ব্যাচটি পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে শিক্ষকদের দায় এড়ানোর এমন ভিন্ন বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
আইসিটি বিভাগ: এদিকে, সর্বাধিক শিক্ষার্থী ফেল করা আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক শারমিন আক্তারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও দায়িত্বশীলদের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং ভয়াবহ এই ফলাফল ধসের কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। শিক্ষার মান ফেরাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।