নিজস্ব প্রতিবেদক।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের উত্তর শিমুলিয়া গ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছানা তৈরি এবং ভেজাল ঘি প্রস্তুতের অভিযোগে একটি কারখানা সিলগালা করে দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কারখানার মালিক গোপাল ঘোষকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত গোপাল ঘোষ গত ৭ থেকে ৮ বছর ধরে স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে দুধ সংগ্রহ করে নিজ বাড়িতে কারখানা স্থাপন করে ছানা তৈরি করে আসছিলেন। পরবর্তীতে তা ঢাকার বিভিন্ন নামিদামি মিষ্টির দোকানে সরবরাহ করা হতো। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সম্পূর্ণ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছানা ও ভেজাল ঘি তৈরি করা হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সকালে সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
অভিযানকালে দেখা যায়, অত্যন্ত নোংরা ও দূষিত পানি দিয়ে দুধ প্রক্রিয়াজাত করে ছানা তৈরি করা হচ্ছিল। যে পানিতে দুধ ও ছানা ঠান্ডা করা হচ্ছিল, তা ছিল চরম অস্বাস্থ্যকর। একই সাথে কারখানার লাগোয়া স্থানে গোয়ালঘর এবং নোংরা টয়লেট অবস্থিত। এ ছাড়া কারখানাটিতে নকল ঘি তৈরি করে ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতে সরবরাহ করা হতো। অভিযানের সময় কারখানার মালিক গোপাল ঘোষ তার অপকর্মের কথা স্বীকার করেন।
অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, “ঘটনাস্থলে গিয়ে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নকল ঘি তৈরির সত্যতা পাওয়া যায়। মালিক দোষ স্বীকার করায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুতকৃত ছানা ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট করা হয়। পাশাপাশি কারখানাটি সিলগালা এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।”
তিনি আরও জানান, কারখানার সার্বিক পরিবেশ সম্পূর্ণ পরিবর্তন ও মানসম্মত না করা পর্যন্ত কারখানাটির উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালেও একই অপরাধে জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে গোপাল ঘোষকে সতর্ক করার পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই তিনি এতদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে আসছিলেন।