নিজস্ব প্রতিবেদক,
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ বাজারে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে জিলাপি তৈরির অভিযোগ উঠেছে এক হোটেল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাফরগঞ্জ বাজারের ‘মামা-ভাগিনা হোটেল অ্যান্ড সুইটস’-এ এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে মবের শিকার ও লাঞ্ছিত হয়েছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামা-ভাগিনা হোটেল অ্যান্ড সুইটসের স্বত্বাধিকারী সঞ্জয় দত্ত দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পোড়া সরিষার তেলের সাথে রং ও হাইড্রোজসহ মারাত্মক ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে জিলাপি ভাজতেন। বিষাক্ত এই জিলাপি খেয়ে স্থানীয় শিশু ও সাধারণ মানুষ ক্যান্সারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
উক্ত ঘটনা ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর সাংবাদিক মো. বাদশা মিয়া সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে যান। এসময় দোকানের স্বত্বাধিকারী সঞ্জয় দত্ত ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা উপস্থিত জনগণকে উস্কানি দিয়ে একটি কৃত্রিম ‘মব’ তৈরি করে ওই সাংবাদিককে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. বাদশা মিয়া বলেন, “আমি সংবাদকর্মী হিসেবে শুধু সত্য তথ্য এবং অনিয়মের প্রমাণ সংগ্রহ করতে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সঞ্জয় দত্ত ও তার লোকজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনতাকে উস্কে দিয়ে আমার ওপর হামলার চেষ্টা চালায় এবং আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এতে আমার জান-মালের চরম নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে খাদ্যসামগ্রী তৈরি এবং সংবাদসংগ্রহকালে সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় জাফরগঞ্জ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভেজাল খাদ্য তৈরি বন্ধ, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল