নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় বিভিন্ন কোম্পানির বাজারজাতকৃত বেশ কয়েকটি ব্রান্ডের সার ল্যাব পরীক্ষায় ‘ভেজাল ও মানহীন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সারসমূহের কেনাবেচা ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বাজার থেকে দ্রুত তা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাটুরিয়ার উপজেলার চর তিল্লি, চর সাটুরিয়া,দড়্গ্রাম ও বালিয়াটি বাজারসহ বিভিন্ন ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকান থেকে ১৬টি সার ও কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হলে সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্টে ৭টি প্রতিষ্ঠানের নমুনায় নির্ধারিত মানমাত্রার চেয়ে অনেক কম কার্যকর উপাদান পাওয়া যায়। ‘সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬’-এর ১৭(২)(ঘ) উপধারা অনুযায়ী ল্যাব টেস্টে ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় উক্ত সার ও কীটনাশকগুলোর ক্রয়-বিক্রয় এবং মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ল্যাব টেস্টে ভেজাল প্রমাণিত কোম্পানি ও সারের তালিকা:
ব্যাবিলন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরী লিঃ: এর ব্যাবিলন বোরন,
ব্যাবিলন এগ্রিসাইন্স লিঃ: ব্যাবিলন এর জিংক (জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট),নিউ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ: এর নিউ সলুবোর ও সলিড জিংক মনো,
এগ্রো মাইন (প্রাঃ) লিঃ: এর বিজয় জিংক (জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট),হোসেন এন্টারপ্রাইজ সি.সি. লিঃ: এর মনোজিংক (জিংক সালফেট মনোহাইড্রেট),
ডেলকো এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ: এর জিবি জিংক (মনোহাইড্রেট)এবং গ্রীন বাংলা এগ্রোভেট লিঃ: এর জিবি জিংক (মনোহাইড্রেট)।
১৪ সেপ্টেম্বর সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ তানিয়া তাবাসসুম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় জানানো হয়, ল্যাব টেস্টে উল্লিখিত সারের গুণগত মান নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ডের নিচে থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপক ও মার্কেটিং অফিসারদের লিখিতভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা অবিলম্বে সাটুরিয়ার বাজার থেকে এসব সারের সকল সরবরাহ বা চালান ফেরত নেন। একইসঙ্গে স্থানীয় সার বিক্রেতা ও ডিলারদের এ সার কেনাবেচা বা মজুত করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত হরগজ ইউনিয়নের কৃষক আ.খ.ম নূরুল হক বলেন, “আগে সামান্য সারে ভালো কাজ হতো। এখন নামী কোম্পানির সার ব্যবহার করেও ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন মিলছে না।” এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার প্রায় ৩৭ হাজার ৪৭৪ জন কৃষক।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছাঃ তানিয়া তাবাসসুম জানান, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও ফসলের সুরক্ষায় সার বাজারে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভেজাল সার বা কীটনাশক এর সাথে জড়িত বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে যে সকল দোকানে এই ভেজাল সার ও কীটনাশক পাওয়া গেছে তাদেরকে লিখিতভাবে বিক্রির নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে সাটুরিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম জানান, কৃষকদের সাথে প্রতারণা করে কেউ ছাড় পাবে না। ভেজাল সারের সঙ্গে জড়িত ডিলার ও চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।