নিজস্ব প্রতিবেদক, রূপকথা টিভি
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক ‘সাটুরিয়া পাবলিক লাইব্রেরী’ ভবনটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চরম জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লাইব্রেরীটি তালাবদ্ধ থাকায় এবং নিয়মিত ব্যবহার ও অযত্ন-অবহেলায় ভেতরে থাকা লাখ লাখ টাকার দুর্লভ ও মূল্যবান বই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীরা।
রোববার (১৮ অক্টোবর)দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ১৯৮৩ সালে স্থাপিত এই ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরী ভবনের দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। দরজায় ঝুলছে তালা, শেওলা ও ময়লা জমে সৃষ্টি হয়েছে এক ভুতুড়ে পরিবেশ। ভবনের নিচতলায় ময়লা-আবর্জনা ও পরিত্যক্ত সামগ্রীর স্তূপ জমে থাকায় এটি এখন সম্পূর্ণ ব্যবহারের অযোগ্য। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে লাইব্রেরীটি বন্ধ থাকায় তারা এখানে এসে বই পড়া বা তথ্য আহরণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জ্ঞানচর্চার এই ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রটি কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতায় আজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আমীর হামজা বলেন, “সাটুরিয়া উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরী দীর্ঘদিন যাবৎ তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এ বিষয়টি মাননীয় খাদ্য মন্ত্রী মিজ্ আফরোজা খানম রিতা এমপি মহোদয়ের নজরে আনলে তিনি আমাকে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। সেই মোতাবেক আমি নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, অতিদ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পাবলিক লাইব্রেরি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করে খুলে দিলে এলাকার ছাত্রসমাজ ও যুবসমাজ অবসর সময়ে জ্ঞানচর্চার সুযোগ পাবে; যা তাদের মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন অনৈতিক-অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে। উপজেলার একমাত্র এই লাইব্রেরিটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তরুণ সমাজ বইবিমুখ হয়ে পড়ছে এবং ভেতরের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বইগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম জানান, লাইব্রেরীটির করুণ অবস্থা ও স্থানীয়দের দাবির বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিনে লাইব্রেরীটি পরিদর্শন করে তালা খুলে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে এবং বইগুলো রক্ষা সহ ভবন সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের দাবি— অনতিবিলম্বে লাইব্রেরীটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন রূপে চালু করা হোক, যাতে তরুণ প্রজন্ম আবারও বইমুখী হয়ে সুষ্ঠু সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ পায়।