মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসময়ে তরমুজ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিস, সাটুরিয়ার উদ্যোগে উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের বরুণ্ডি গ্রামে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে ‘তরমুজ উৎপাদন প্রদর্শনী’।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া তাবাসসুম তরমুজ উৎপাদন প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বরুণ্ডি গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে কৃষক মোঃ ফিরোজ হোসেন তাঁর ২০ শতক জমিতে ‘বাংলা লিংক (হাইব্রিড)’ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। গত ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে প্রদর্শনীটি স্থাপন করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক পর্যবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় মাচা পদ্ধতিতে চাষ করা এই তরমুজ ক্ষেতে ইতিবাচক ফলন দেখা যাচ্ছে।
কৃষক মোঃ ফিরোজ হোসেন বলেন, “কৃষি অফিসের সঠিক নির্দেশনা পেয়ে আমি অসময়ে তরমুজ চাষের সাহস পেয়েছিলাম। বর্তমানে ক্ষেতের ফলন খুব ভালো দেখা যাচ্ছে। আশা করছি বাজারে ভালো দাম পাব।”
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) মোঃ সোহেল রানা জানান, মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে ফসলের মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া তাবাসসুম বলেন, ঐতিহ্যবাহী চাষপদ্ধতির বাইরে গিয়ে অসময়ে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে উচ্চফলনশীল জাতের তরমুজ চাষ কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি উদ্যোগ। ‘ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর মূল লক্ষ্যই হলো নতুন প্রযুক্তি ও উচ্চমূল্যের ফসল স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা কৃষক মোঃ ফিরোজ হোসেনকে সার্বিক কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি। এই প্রদর্শনীর সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও অসময়ে তরমুজ ও সবজি চাষে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশাবাদী।
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঠিক প্রসারের মাধ্যমে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।