মোঃ শাহ আলম,নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে সার বিতরণকে কেন্দ্র করে কৃষকদের মধ্যে হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পরবর্তীতে পুলিশি পাহারায় এবং উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের কলিয়া বাজারে ‘মেসার্স রাজ্জাক অ্যান্ড কোং’-এর সার গুদামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চারা রোপণ ও চাষাবাদের ভরা মৌসুমে সকাল থেকেই সার পাওয়ার আশায় শত শত পুরুষ ও নারী কৃষক গুদামের সামনে এসে ভিড় জমান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় ও চাপ দুটিই বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে অধৈর্য হয়ে কয়েকজন কৃষক গুদামের ভেতরে ঢুকে পড়লে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের হল রুমে স্থানীয় সার ডিলার ও সাব-ডিলারদের নিয়ে প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভা চলছিল। বেলা পৌনে ১২টার দিকে কলিয়া বাজারে সারের গুদামে বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লুৎফে আল মুঈজ, সার ডিলার কমিটির সভাপতিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
পরবর্তীতে গ্রাম পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পুরুষ ও নারী কৃষকদের জন্য পৃথক লাইনের ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে পুলিশ পাহারায় শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে সার বিতরণ সম্পন্ন হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সার ডিলার আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি ৭০৬ বস্তা বিভিন্ন ধরনের সার উত্তোলন করেছিলেন। তবে একযোগে বিপুলসংখ্যক কৃষক উপস্থিত হওয়ায় গুদামের সামনে ভিড় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে।
সার পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে স্থানীয় কৃষক আনোয়ার হোসেন ও মোশাররফ হোসেন দুলাল জানান, সকালে এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাতে হলেও পরবর্তীতে পুলিশ ও প্রশাসন এসে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা করায় তারা প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পেরেছেন। চাষাবাদের এ মৌসুমে সময়মতো ও চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব বলে দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস বলেন, “হঠাৎ বিপুল ভিড়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে তা অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পরিবেশ স্বাভাবিক করে সার বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেসব পয়েন্টে সার বিতরণ করা হবে, সেখানে আগে থেকেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”