নিজস্ব প্রতিবেদক, রূপকথা টিভি।
মানিকগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটার সীমানার মধ্যে কোনো দোকান বা বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করা হলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইন বাস্তবায়নে খুব শীঘ্রই জেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘জেলা পর্যায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স কমিটির ত্রৈমাসিক সভায়’ এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মানিকগঞ্জ জেলায় মোট ১১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১৯ জন ব্যক্তিকে সর্বমোট ৩ হাজার ১৫০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
সভায় তামাক আইন সংশোধনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০২৬ সালে ৯১ নম্বর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন সংশোধিত আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি পাবলিক প্লেস কিংবা পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করলে তাকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হতে পারে। উল্লেখ্য, পূর্বে এই অপরাধের বিপরীতে জরিমানার পরিমাণ ছিল ৩০০ টাকা।
জেলা প্রশাসক ও টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত কর্মকর্তা ও টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা বলেন, তামাক মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা হবে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে তামাকের কুফল থেকে বাঁচাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের দোকানগুলোতে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি বন্ধে দ্রুতই বিশেষ অভিযান শুরু হবে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান, টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যসচিব ও ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল্লাহ-আল-আজিজ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন আহমেদ।
এছাড়াও মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মাহবুব কামাল, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হাবীব, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বন্যা, পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর খাদেমুল ইসলাম, পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মীর মো. জসীম উদ্দীন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল হামিদ মিয়া এবং জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মোরশেদ আলমসহ টাস্কফোর্স কমিটির অন্যান্য সদস্যরা সভায় অংশ নেন।