নিজস্ব প্রতিবেদক, রূপকথা টিভি।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় প্রায় দেড় লাখ মানুষ। সরকারি নথিপত্রে প্রতিটি কেন্দ্রে চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে চিকিৎসকদের দেখা মেলে না। ফলে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ফার্মাসিস্টদের দিয়ে দায়সারাভাবে চলছে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানকোড়া, চরতিল্লি ও দ্বিমুখা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসাররা নিজ কর্মস্থলে না গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী দেখছেন। তিল্লি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগে প্রাক্কলনে এবং দরগ্রাম উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে প্রেষণে (সংযুক্তিতে) রয়েছেন। অন্যদিকে, বালিয়াটি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক তদারকির অভাব ও প্রেষণ প্রথার কারণে ইউনিয়নের প্রান্তিক মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুও পাচ্ছেন না।
বালিয়াটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা রিনা আক্ষেপ করে বলেন, এখানে এমবিবিএস ডাক্তার না থাকায় তেমন সেবা পাই না।শুনেছি এমবিবিএস ডাক্তার সাটুরিয়া পর্যন্ত আসেন। এখানে আসলে আমরা ভালো সেবা পেতাম। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই অচিরেই যাতে এখানে এমবিবিএস ডাক্তার এসে আমাদের স্বাস্থ্য সেবা দেয় সেই প্রত্যাশা কামনা করছি।
ধানকোড়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মী রফিকুল ইসলাম জানান, গত তিন বছর ধরে সেখানে মেডিকেল অফিসারের কক্ষে তালা ঝুলছে। দরগ্রাম কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো মেডিকেল অফিসার কে আসতে দেখিনি।তার রুম সব সময় তালা থাকে। আমি যেটুকু প্রাথমিক সেবা দিতে পারি সেটুকু দেই। জটিল রোগী আসলে সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেই বলে জানান তিনি।
চিকিৎসক না থাকার সুবাদে দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কোম্পানির ওষুধ লেখা এবং নিজস্ব প্র্যাকটিস চালানোর অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। এদিকে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো কার্যকর না থাকায় সাধারণ মানুষ সামান্য চিকিৎসার জন্য জেলা ও উপজেলা সদরে ছুটতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের সময় ও অর্থের অপচয় ঘটাচ্ছে।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, সাকুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ঘাটতি থাকায় তাদেরকে দিয়ে “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হতো। এখন সুখের ঘাটতি নেই। দ্রুতই তাদেরকে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন,সরকারের মেন্ডেডব “গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবা পৌছিয়ে দেওয়া । তাই ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমবিবিএস চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।”
দ্রুত সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়ে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিতি ও পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।