মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি,
শিক্ষক ৬ জন, আর এসএসসি পরীক্ষার টেবিলে বসার মতো শিক্ষার্থী ছিল মাত্র ৫ জন। অভিভাবক ও স্থানীয়দের ধারণা ছিল, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এত কম হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শতভাগ মনোযোগ ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ পাবে। ফলাফলও হবে চমকপ্রদ। কিন্তু বাস্তবে ঘটল ঠিক উল্টো ঘটনা—৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে ৪ জনই।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ‘শিরীন আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়’-এর চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার এমন বিপর্যয়কর ফলাফলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মাঝে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের ঘোষিত ফলাফল থেকে জানা যায়, বিদ্যালয়টি থেকে অংশ নেওয়া ৫ জন শিক্ষার্থীই ছিল মানবিক বিভাগের। তাদের মধ্যে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী পাশ করতে সমর্থ হয়, বাকি ৪ জনই অকৃতকার্য হয়েছে।
এমন চরম ব্যর্থতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। স্থানীয় একাধিক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, “শিক্ষার্থী কম থাকলে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর প্রতি আলাদা নজর দেওয়ার সুযোগ অনেক বেশি থাকে। ৬ জন শিক্ষক মিলে ৫ জন শিক্ষার্থীকে সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে পারলেন না, এটা মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার অভ্যন্তরীণ ঘাটতি ও অবহেলা তদন্ত করে সঠিক কারণ উদঘাটন করা প্রয়োজন।”
ফলাফলের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জানান, এ বছর ৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও ১ জন পরীক্ষা দেয়নি, মূলত ৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল (যার মধ্যে ১ জন পাস করেছে)। তিনি আরও জানান, সার্বিক ফলাফল কেন এত খারাপ হলো তা পর্যালোচনা করতে এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুতই অভিভাবকদের নিয়ে একটি জরুরি সমাবেশের আয়োজন করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হানিফা জানান, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশানুরূপ ফলাফল করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করা হবে এবং আগামী সমন্বয় সভায় ফলাফল উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই যথাযথ নজরদারি না থাকা এবং প্রশাসনিক তদারকির অভাবেই এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।