মোঃ শাহ আলম, স্টাফ রিপোর্টার: মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জাবরা শাহ্ এখলাছিয়া আশরাফিয়া দরবার শরিফে অনুষ্ঠিত হলো এক অভূতপূর্ব ও ব্যতিক্রমী উৎসব। একটিমাত্র বিশাল আকৃতির ডেগে একসঙ্গে ১০১ মণ চালের খিচুড়ি রান্না করে আগত হাজার হাজার ভক্তদের খেদমত করা হয়েছে। বিশাল এই ডেগে বিশাল আয়োজনের দৃশ্য দেখতে ও তাবারুক গ্রহণ করতে দরবার প্রাঙ্গণে ঢল নামে উৎসুক জনতার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক মিলনমেলার আবহ। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও নির্ধারিত সময়ে শুরু হয় এই রান্নার কর্মযজ্ঞ। বিশাল এই আয়োজনের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে কাঠ সংগ্রহ, মসলা মাখানো, রান্না ও পরিবেশন পর্যন্ত পুরো কার্যক্রমে একযোগে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক।
সাড়ে সাত লাখ টাকার বিশাল ডেগ
আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল রান্নায় ব্যবহৃত দৈত্যাকৃতির স্টেইনলেস স্টিলের ডেগটি। জাবরা দরবার শরিফের পীর হযরত মাওলানা আবুল কালাম আজাদ জানান, ১৫ মণ ওজনের বিশেষ স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এই সুবিশাল ডেগ। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। তিনি আরও জানান, “এই একটিমাত্র ডেগে রান্না করা খিচুড়ি দিয়ে ১০ থেকে ২০ হাজার ভক্ত ও সাধারণ মানুষকে অনায়াসে খেদমত করা সম্ভব।”
আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ও ভক্তদের ঢল
এক ডেগে ১০১ মণ চালের খিচুড়ি রান্নার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট-বড় সব বয়সের মানুষ দরবার শরিফে ছুটে আসেন। વિશાલ ডেগে কাঠ জ্বালিয়ে রান্না করার দৃশ্যটি হয়ে ওঠে উপস্থিত সবার মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। রান্না শেষে দরবারে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুর মাঝে সারিবদ্ধভাবে এই খিচুড়ি পরম শ্রদ্ধায় পরিবেশন করা হয়।
সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মানিকগঞ্জের জাবরা শাহ্ এখলাছিয়া আশরাফিয়া দরবার শরিফের এই দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য কেবল কোনো রান্নার আয়োজন নয়। প্রতিবছর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে এলাকায় আনন্দ উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। এটি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহ্য বজায় রাখতে আগামীতেও এই ধারায় ভক্তদের সেবায় বিশাল পরিসরে তাবারুক বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।