নিজস্ব প্রতিবেদক।
“ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নয়, আমাদের সবার একটাই বড় পরিচয়—আমরা বাংলাদেশি। আমাদের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী প্রাঙ্গণে শুভ জন্মাষ্টমী-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি এসব কথা বলেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার কারণে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পেরেছি। আপনাদের এই ভালোবাসার ঋণ আমাকে কাজের মাধ্যমে শোধ করতে হবে। আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে আমি সেই দায়মুক্তির চেষ্টা করে যাব। যেকোনো প্রয়োজনে ডাকলেই আমাকে আপনারা পাশে পাবেন।”
মানিকগঞ্জের সুদীর্ঘ অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “মানিকগঞ্জে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের মধ্যে এক চমৎকার প্রীতি ও সৌহার্দ্য বিদ্যমান। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান চোখে দেখেন। এখানে ধর্মীয় ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হয় না। এই মেলবন্ধন ও জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্ত ভিত্তি।”
অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ী পূজা উদযাপন কমিটির হাতে এক লাখ টাকার অনুদান তুলে দেন। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের উত্থাপিত বিভিন্ন যুক্তিসঙ্গত দাবি-দাওয়ার বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপস্থিত জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা প্রদান করেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রণব কুমার সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার, শ্রী কালীপদ ঘোষ, অনিল কুমার ও রঞ্জিত কুমার দে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
জন্মাষ্টমীর আলোচনা সভা শেষে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। তিনি দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মানিকগঞ্জের বেউথা মসজিদ প্রাঙ্গণ এবং বেউথা-আন্ধারমানিক সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ করেন।
এ সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সর্বস্তরের জনগণকে বেশি করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।