মোঃ শাহ আলম,স্টাফ রিপোর্টার:
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় এক সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের বসতঘর থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকার কাঁসা ও পিতলের মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে আইন-সংঘাত যুক্ত এক শিশুসহ মোট তিনজনকে আটক করেছে এবং চোরাই মালামালের অংশবিশেষ উদ্ধার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর থানার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন সাহা (৫৭) ও তাঁর পরিবার বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাস করেন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাড়ির ঘর পরিষ্কার করানোর পর ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে তারা ধর্মীয় ‘অষ্টপ্রহর’ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাড়ি ফিরে দেখতে পান ঘরের দরজার নাট খোলা ও ভেতরে চুরি হয়েছে। চোরেরা ঘরের সিলিংয়ের ওপর থাকা পূজা ও অর্চনায় ব্যবহৃত আনুমানিক ২,৪২,৫০০ (দুই লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার পাঁচশত) টাকা মূল্যের পিতল ও কাঁসার বিভিন্ন সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়।
চুরি হওয়া মালামাল:১টি পিতলের বড় পরাত ,১টি পিতলের বড় ডেক ,২টি পিতলের কলস,
৪টি কাসার থালা,১০টি কাঁসার গ্লাস,৫টি কাঁসার বাটি, ,১টি কাঁসার পাতিল ,৮টি কাঁসার লোটা।
এ ঘটনায় গৃহকর্তা অজ্ঞাতনামা চোরদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করলে এসআই মো: শফিকুল আজম লিটন মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন।
তদন্তকালে পুলিশ প্রথমে ঘটনার সাথে জড়িত আইন সংঘাত যুক্ত শিশু মো: আলিফ হোসেন (১৭)-কে আটক করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত আসামি আব্দুর রহমান (৩৩) এবং চোরাই মালামাল ক্রয়কারী ভাঙ্গারি দোকানদার চঞ্চল হোসেন (৫০)-কে আটক করা হয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আব্দুর রহমানের দোকান থেকে চুরিকৃত ৬টি কাঁসার লোটা, ২টি মাঝারি সাইজের কাঁসার বাটি এবং ১টি বড় কাঁসার কলস উদ্ধার করা হয়, যা বাদী নিজে শনাক্ত করেছেন।
এবিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি স্বপন কুমার সরকার জানিয়েছে, আটক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে পূর্বেরও দৌলতপুর থানায় চুরি ও মাদকের পৃথক দুটি মামলা রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।