নিজস্ব প্রতিবেদক, রূপকথা টিভি
গ্রামীণ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে সড়কের স্থায়িত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। মানিকগঞ্জ জেলার সাতটি উপজেলায় এলজিইডির মেরামত কর্মসূচির আওতায় লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস)-এর মাধ্যমে ২৩৩ জন নারী নিয়মিত গ্রামীণ সড়কের দুই পাশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ছোটখাটো মেরামতের কাজ করছেন।
এলজিইডির এ উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সড়কের ছোটখাটো ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। একই সঙ্গে সড়কের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ করে সরকারের মেরামত ব্যয়ও কমানো সম্ভব হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন জানান, জেলার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কের ইমব্যাঙ্কমেন্ট বালুমাটির হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত ও পানির স্রোতে সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে ছোট-বড় ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এসব ভাঙন সময়মতো মেরামত না করলে পরবর্তীতে তা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং সড়ক পুনর্নির্মাণ বা বড় ধরনের মেরামতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়।
তিনি বলেন, “এলসিএসের মাধ্যমে নিয়োজিত নারীদের দিয়ে নিয়মিতভাবে সড়কের দুই পাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ছোট ছোট ভাঙন দ্রুত মেরামত করার ফলে সড়কগুলো বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। এতে একদিকে সরকারের বড় ধরনের মেরামত বাবদ শত শত কোটি টাকা ব্যয়ের প্রয়োজন কমছে, অন্যদিকে দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরো জানান মানিকগঞ্জে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও জনমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে এসব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নির্দেশনায় কার্যক্রম সমূহের মধ্যে রয়েছে
ছাদভিত্তিক সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সংকট নিরসনের উদ্যোগ, ইটের বিকল্প হিসেবে ইউনি ব্লক ব্যবহার করে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ, রাস্তার স্লোপ সুরক্ষায় বিননা ঘাসের ব্যবহার, খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী জনাব বেলাল হোসেন বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে এসব পরিবেশবান্ধব ও জনমুখী কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে তদারকি করছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, প্রচলিত ইট ব্যবহারের পরিবর্তে ইউনি ব্লক ব্যবহারের ফলে একদিকে কৃষিজমির উপর চাপ কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে ইটভাটার কারণে সৃষ্ট পরিবেশদূষণ ও বনজ সম্পদের ওপর চাপ কমবে। একইভাবে রাস্তার স্লোপে বিননা ঘাস রোপণের মাধ্যমে মাটির ক্ষয় ও বৃষ্টির পানিতে রাস্তার পাশ ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমানো সম্ভব হচ্ছে।

স্থানীয় নেতৃত্বে অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম
মানিকগঞ্জ জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনবান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রম মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খান রিতা এবং মানিকগঞ্জ-১ ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে নারীর কর্মসংস্থান, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নকে একই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার ফলে মানিকগঞ্জে এলজিইডির কার্যক্রম আরও জনবান্ধব ও কার্যকর হয়ে উঠছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সাশ্রয়, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন—চারটি ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে।