সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিংগাইরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন দৌলতপুরে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে বিশাল জনসভার আয়োজন ​দৌলতপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় যুব দিবস পালিত সাটুরিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘জাতীয় যুব দিবস-২০২৬’ পালিত দুর্নীতিমুক্ত ও আদর্শ হরগজ ইউনিয়ন গঠনে পরিবর্তনের ডাক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফরিদ(শফিক) মৃধার সাটুরিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দুর্নীতিমুক্ত ও আদর্শ হরগজ ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে: চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. ফরিদ মৃধা (শফিক)-এর মুখোমুখি দিশারী’র আয়োজনে “সমতার তারুণ্য” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ঘিওরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি: তিন দোকানকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা সাটুরিয়ার বিদায়ী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানজিলা ফেরদৌসীকে সংবর্ধনা

সারের ডিলারশিপ না পেয়ে যুবদল নেতার পদত্যাগের ঘোষণা, দল থেকে অবমুক্তকরণ

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬৬ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রূপকথা টিভি

​মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সারের ডিলারশিপ না পেয়ে হতাশা থেকে দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দেওয়া এই পদত্যাগের পোস্ট ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঘটনাটি নজরে আসার পরপরই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে যুবদলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
​শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সাদ্দাম হোসেন যুবদলের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপরই জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু ও সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিন স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে সাদ্দাম হোসেনকে দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
​ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাদ্দাম হোসেন জানান, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সাটুরিয়ার দরগ্রাম বাজারে সারের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তাঁর বাবাও দরগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ সালে বিএনপি রাজনীতি করার কারণে তাঁরা সারের ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হন। এরপর থেকে অন্য ডিলারের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে তাঁদের ব্যবসা চালাতে হচ্ছিল।
​সম্প্রতি সাটুরিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে নতুন করে সারের ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে সাদ্দাম হোসেন ও তাঁর পরিবার আবেদন করে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় দরগ্রাম ইউনিয়নে মো. রুহুল আমীন নামের অন্য এক ব্যক্তিকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
​নিজের রাজনৈতিক ত্যাগের কথা উল্লেখ করে সাদ্দাম হোসেন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে আমাদের পরিবার নানা নির্যাতন ও মামলার মুখোমুখি হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা ছিল। এমনকি বাবা ও ছেলে একসঙ্গে হাতকড়া পরে জেল খেটেছি। দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকেও সারের ডিলারশিপ না পাওয়ায় চরম হতাশ হয়েই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”
​এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু জানান, একটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক প্রার্থী ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন। উপজেলা কমিটি আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকেই এসেছে। এখানে দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কিছু নেই। পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিষয়ে উপযুক্ত মূল্যায়ন করা হবে।
​সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, “প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন প্রার্থীর নাম উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। জেলা কমিটি তা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। গত ৬ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয় নতুন ডিলারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে।”
​উল্লেখ্য, সাটুরিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৯ জন ডিলারের সবাই বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং তাঁদের মধ্যে চারজন নারী প্রতিনিধি রয়েছে বলে স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যেও গুঞ্জন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2025 RupkothaTV
Designed & Maintained by PSDCooker