নিজস্ব প্রতিবেদক, রূপকথা টিভি
সাটুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধানকোড়া ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। হাটে-বাজারে, সামাজিক অনুষ্ঠানে ও চায়ের দোকানে এখন একটাই আলোচনা—আসন্ন নির্বাচনে কে হচ্ছেন এই অবহেলিত জনপদের কাণ্ডারি? পরিবর্তনের এই সুবাতাসে ধানকোড়া ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আব্দুল লতিফ।

দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ধানকোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি এলাকায় একজন সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তাঁর বিশেষ সুনাম রয়েছে।
তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠা অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী এই নেতৃত্বের মতে—সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গিই পারে ধানকোড়া ইউনিয়নের আমূল রূপান্তর ঘটাতে।
জনসেবাই মূল ব্রত
চেয়ারম্যান পদে লড়ার মূল উদ্দেশ্য জানতে চাইলে মোঃ আব্দুল লতিফ দৃঢ়তার সাথে বলেন,
”ক্ষমতা কিংবা পদ-পদবি আমার মূল লক্ষ্য নয়; ধানকোড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে তাঁদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমার প্রধান দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে এই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ যে কাঙ্ক্ষিত সরকারি সেবা ও উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত, আমি সেই সেবা কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি তাঁদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই।”
৫ দফার অগ্রাধিকার ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা
ধানকোড়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, ডিজিটাল ও নিরাপদ মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করতে তিনি সুনির্দিষ্ট ৫টি খাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে তাঁর নির্বাচনী রূপরেখা সাজিয়েছেন:
টেকসই পরিকাঠামো ও যাতায়াত ব্যবস্থা: ইউনিয়নের প্রধান সংযোগ সড়ক সহ অসম্পূর্ণ ও জরাজীর্ণ কাঁচা রাস্তাগুলো দ্রুত পাকাকরণ, পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং রাতে গ্রাম্য সড়কের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন।
দুর্নীতিমুক্ত সুশাসন ও স্বচ্ছ পরিষদ: ইউনিয়ন পরিষদকে শতভাগ দালালমুক্ত করা। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী কার্ড, জন্ম নিবন্ধন ও অন্যান্য নাগরিক সনদ পেতে সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অর্থ লেনদেনের শিকার না হন, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা।
কৃষি ও কৃষকবান্ধব সুবিধা: কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের চাষীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা যেমন—ন্যায্যমূল্যে সার, উন্নত জাতের বীজ এবং সেচ ও আধুনিক কৃষিযন্ত্র প্রাপ্তি সুগম করা।
শিক্ষা ও তরুণ সমাজের সার্বিক বিকাশ: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক মানোন্নয়ন, অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও বেকারত্ব থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন।
মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা: ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করে বিনামূল্যে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া।
ভোটারদের অভূতপূর্ব সাড়ায় আশাবাদী
তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন ও উষ্ণ অভ্যর্থনা পাচ্ছেন উল্লেখ করে এই প্রার্থী জানান:
”ধানকোড়াবাসী এখন কেবল আশ্বাস নয়, বাস্তবে কাজের রূপায়ণ দেখতে চায়। তারা এমন অভিভাবক চায়, যাকে বিপদে-আপদে সবসময় পাশে পাওয়া যায়। আমি ধানকোড়া ইউনিয়নের দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছি। জনগণ সুযোগ দিলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এক সুখী, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ ধানকোড়া গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।”